রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউএইচওতে পুতুলের নিয়োগে জালিয়াতি ছিল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপ-শাখায় আমানত বেড়েছে, কমেছে ঋণ বিতরণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরি ফেরতের দাবিতে অবস্থান, গ্রাহকদের পাল্টা কর্মসূচি সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট: হামিদুর রহমান স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: জুবাইদা রহমান
  • তীব্র গরমে ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা

    তীব্র গরমে ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে রাজধানীসহ দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আইসিডিডিআর,বি (icddr,b) সহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত আক্রান্ত মানুষ ভর্তি হচ্ছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের এই সময়ে অসচেতনতা, দূষিত পানি পান এবং বাসি-খোলা খাবার খাওয়ার ফলেই ঘরে ঘরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে একটু বাড়তি সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই পারে এই মরণব্যাধি থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।

    গরমে কেন বাড়ে ডায়রিয়ার ঝুঁকি?

    চিকিৎসকদের মতে, গ্রীষ্মকালে বাতাসে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাঙ্গাস খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

    • দূষিত পানির ব্যবহার: গরমের তীব্রতায় মানুষ যেখানে-সেখানে অনিরাপদ পানি বা বরফ মিশ্রিত শরবত পান করে, যা সরাসরি ডায়রিয়ার জীবাণু (যেমন: ই-কোলাই, রোটাভাইরাস) শরীরে প্রবেশ করায়।

    • খাবারে দ্রুত পচন: রান্না করা খাবার গরমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নষ্ট বা বাসি হয়ে যায়। সেই খাবার না বুঝে খেলে ফুড পয়জনিং ও ডায়রিয়া হয়।

    • মাছির উপদ্রব: মিষ্টি ফলমূল বা খোলা খাবারের ওপর মাছি বসে জীবাণু ছড়ায়।

    ডায়রিয়া হলে কখন হাসপাতালে যাবেন? (বিপজ্জনক লক্ষণসমূহ)

    সাধারণ ডায়রিয়া ঘরে বসেই ওআরএস (ORS) বা খাবার স্যালাইনের মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে: ১. ২৪ ঘণ্টায় ৮-১০ বারের বেশি পাতলা পায়খানা হলে বা সাথে বমি থাকলে।

    ২. শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়লে এবং চোখ ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে।

    ৩. মুখ ও জিহ্বা পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়া।

    ৪. পায়খানার সাথে রক্ত বা অতিরিক্ত মিউকাস (আম) যাওয়া।

    ৫. রোগীর মধ্যে অতিরিক্ত ছটফটানি বা অচেতন ভাব দেখা দিলে।

    প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের জরুরি ‘প্রেসক্রিপশন’

    ডায়রিয়া নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ করাই উত্তম। চিকিৎসকেরা গরমের এই দিনগুলোতে ৫টি জরুরি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন:

    • পানি ফোটানো নিশ্চিত করুন: পানি অন্তত ফুটতে শুরু করার পর আরও ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করুন। ফিল্টারের পানির ক্ষেত্রেও উৎস নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত হোন।

    • রাস্তার খোলা খাবার ও শরবতকে ‘না’ বলুন: রাস্তার ধারের আখের রস, লেবুর শরবত, কিংবা বাণিজ্যিক অস্বাস্থ্যকর বরফ দেওয়া যেকোনো পানীয় খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

    • বাসি খাবার পরিহার: রান্না করা খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না। ফ্রিজে রাখা খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই খুব ভালো করে গরম করে নিতে হবে।

    • হাত ধোয়ার অভ্যাস: খাবার তৈরি, পরিবেশন এবং খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।

    • শিশুদের বাড়তি যত্ন: স্তন্যপায়ী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো চালু রাখতে হবে এবং তাদের ফিডার বা খাবারের বাসনপত্র ফুটন্ত পানিতে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

    ডায়রিয়া হলে প্রথম কাজই হলো শরীরকে পানিশূন্য হতে না দেওয়া। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর নিয়ম মেনে খাবার স্যালাইন খাওয়ালে এই রোগ ঘরে বসেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ