৯ মাস ধরে ওষুধ নেই শিবগঞ্জের ৫৬ ক্লিনিকে, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৫৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে টানা প্রায় ৯ মাস ধরে সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত ওষুধ সরবরাহ পুনরায় শুরুর কোনো নির্দিষ্ট সময় জানা নেই, তবে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও অসহায় মানুষরা ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সরকারি এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর ওপর নির্ভরশীল নিম্নআয়ের মানুষদের অনেকেই এখন বাইরে থেকে ওষুধ কেনার সক্ষমতা হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
৭০ বছর বয়সী হানিফা বেগম বলেন, তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। আগে ক্লিনিক থেকে নিয়মিত কিছু ওষুধ পাওয়া যেত, যা দিয়ে চলত। কিন্তু গত ৯ মাস ধরে কোনো ওষুধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কেনাও সম্ভব হচ্ছে না।
৪০ বছর বয়সী আদরী বেগম জানান, তার স্বামী দিনমজুর হওয়ায় সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। আগে জ্বর, সর্দি বা সাধারণ অসুখে ক্লিনিক থেকে ওষুধ পাওয়া যেত, এখন সেটিও বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয় একাধিক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এলেও ওষুধ না থাকায় তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দিন বলেন, আগে একটি প্রকল্পের আওতায় ৫৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ওষুধ সরবরাহ করা হতো। পরে তা কমে আসে এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, মজুত থাকা ওষুধ দিয়ে কিছুদিন কার্যক্রম চালানো হলেও গত ৯ মাস ধরে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সংকট সমাধানে ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনরায় কার্যক্রম চালুর চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।