সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট: হামিদুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস বেশি সময় না হলেও সংকট সমাধানে বিকল্প পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ আর বেশি নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
হামিদুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। বিরোধী দলের বিভিন্ন প্রস্তাবও সরকার আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘলাইন ও তেল সংকটে যান চলাচল ও কৃষিকাজ ব্যাহত হয়েছে। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং তৈরি পোশাক খাতও ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হামিদুর রহমান বলেন, গুম, খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বও বন্ধ হয়নি। ফলে দেশের জনজীবন ও অর্থনীতি সংকটের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। সংসদে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত এবং ৮টায় উদ্বোধনী সভা শেষে লংমার্চ শুরু হবে। গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে এটি রংপুরে যাবে। পথে পাঁচটি পথসভা শেষে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
হামিদুর রহমান জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপ নিয়েছে। এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয়করণ বন্ধ ও বিচার দৃশ্যমান করার দাবিও রয়েছে।