অভিনয়ে নতুন দিগন্তে রাঘব জুয়াল

একটা সময় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো-এর পর্দায় অদ্ভুত স্টাইলের ‘স্লো-মোশন’ নাচ করা সেই ছেলেটাকে মানুষ চিনত এক চিলতে বিনোদনের উৎস হিসেবে। কখনও প্রতিযোগী, কখনও চটুল সঞ্চালক, আবার কখনও সস্তা হাসি-ঠাট্টার প্রাণকেন্দ্র— রাঘব জুয়াল যেন দর্শকমন জয় করেছিলেন শুধুই এক হালকা মেজাজের পারফর্মার হিসেবে। বিনোদনের এই ঝলমলে দুনিয়ায় যেখানে একজন অভিনেতাকে খুব দ্রুতই নির্দিষ্ট একটি ‘ইমেজ’ বা গণ্ডির মধ্যে আটকে ফেলা হয়, সেখানে সব দেয়াল ভেঙে এক অবিশ্বাস্য রূপান্তর ঘটিয়েছেন রাঘব। আজ তিনি বলিউডের বড় বড় প্রজেক্টের এক অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা, যাকে নির্মাতারা ভাবছেন ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম মহাকাব্যিক চরিত্রে।
টেলিভিশনের চকচকে আলোয় চটজলদি জনপ্রিয়তা পাওয়া আর সিনেমার রুপালি জগতে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা— এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। রাঘবকে অনেকেই শুরুতে শুধুই ‘ফানি হোস্ট’ বা ‘ড্যান্সার’ হিসেবে দেখতেন। কিন্তু তিনি নিজেকে সেই গণ্ডিতে আটকে রাখেননি। তিনি আসলে পানির মতো তরল, যখন যে পাত্রে রাখা হয়, তারই আকার ধারণ করতে পারেন। নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার জন্য রাঘব ব্যাকস্টেজে নীরবে নিজের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কাজ করেছেন, চরিত্র বুঝতে শিখেছেন এবং সঠিক সুযোগের জন্য অপেক্ষা করেছেন।
রাঘবের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় বা ‘টার্নিং পয়েন্ট’ আসে ‘কিল’ (Kill) সিনেমার মাধ্যমে। ছবিতে এক ভয়ংকর, নৃশংস ভিলেনের চরিত্রে রাঘবকে দেখে পুরো বলিউড ও দর্শক সমাজ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাকে এতদিন মানুষ কেবল হাসতে আর হাসাতে দেখেছে, সে পর্দার সামনে এতটা ভয়ংকর ও কাঁপন ধরানো উপস্থিতি দেখাতে পারে— তা ছিল অনেকের কাছেই অভাবনীয়। এই একটি সিনেমাই রাতারাতি বলিউড নির্মাতাদের চোখে রাঘব জুয়ালের সংজ্ঞা বদলে দেয়।
‘কিল’ সিনেমার সাফল্যের পর রাঘবের ঝুলিতে এখন একের পর এক বড় প্রজেক্ট। ‘দ্য প্যারাডাইস’-এ খল চরিত্র, ‘এবিসিডি থ্রি’ (ABCD 3)-তে প্রধান চরিত্র, আবার শাহরুখ খানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘কিং’-এ গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আসছে নীতেশ তিওয়ারির বিশাল ক্যানভাসের প্রজেক্ট ‘রামায়ণ’। এই ছবিতে রাঘব জুয়ালকে ‘মেঘনাদ’ (ইন্দ্রজিৎ)-এর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ও জটিল চরিত্রে কাস্ট করার খবরটি প্রমাণ করে যে, বলিউডের শীর্ষ নির্মাতারা এখন তার অভিনয় ক্ষমতাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।
রাঘবের এই অবিশ্বাস্য উত্থান একদিনে হয়নি। টেলিভিশনের কমেডি স্টেজ থেকে সিনেমার বড় পর্দায় খলনায়ক হিসেবে রাজত্ব করার এই পথটা ছিল মূলত চরম ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম আর নিজের প্রতি অবিচল বিশ্বাসের গল্প। তিনি রাতারাতি ‘স্টার’ হননি, বরং প্রতিটি ছোট ছোট সুযোগকে তুলির আঁচড় বানিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের ক্যানভাস বড় করেছেন। আজকের রাঘব জুয়াল শুধু একজন সফল অভিনেতাই নন, বরং গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের গৎবাঁধা নিয়ম ভেঙে নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।