অ্যাকশন হিরো রুবেলের ব্যতিক্রমী সংগ্রহের গল্প

একেকজন মানুষের শখ বা পছন্দ একেকরকম হয়। তবে রূপালি পর্দার তারকাদের লাইফস্টাইল বা শখ অনেক সময়ই সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। ঢাকাই সিনেমার নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় অ্যাকশন হিরো ও মার্শাল আর্ট মাস্টার মাসুম পারভেজ রুবেলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি শতভাগ সত্যি। কোনো ধরণের অনৈতিক বা ক্ষতিকর আসক্তি ছাড়াই, কেবল স্মার্টফোন এবং বিশ্বমানের সুগন্ধি বা পারফিউম সংগ্রহের প্রতি তাঁর যে তুমুল আগ্রহ, তা রীতিমতো বিশ্বরেকর্ড গড়ার মতো। চলচ্চিত্রপাড়ায় কান পাতলেই শোনা যায়, রুবেলই সম্ভবত একমাত্র নায়ক যিনি সার্বক্ষণিক একসাথে ১২টি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন!
পকেট থেকে হাতের মুঠোয়: যেখানে যেভাবে থাকে ১২ ফোন
মার্শাল আর্টের কৌশলে যেমন রুবেলের ক্ষিপ্রতা অনন্য, তেমনি একসাথে এক ডজন ফোন সামলানোর কৌশলও বেশ চমকপ্রদ। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং পারিবারিক লাইফস্টাইল থেকে জানা যায়, রুবেল তাঁর সামনের দুই পকেটে ২টি করে মোট ৪টি ফোন রাখেন। আর যখন তিনি হাঁটেন বা কথা বলেন, দুই হাতের মুঠোয় ৩টি করে মোট ৬টি ফোন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ধরে রাখেন। বাকি দুটি ফোন নিয়ে রয়েছে আরও এক অভিনব গল্প।
১২টি ফোনের মধ্যে ১০টি নিজের সাথে রাখলেও বাকি দুটি ফোন তিনি ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখেন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গৃহস্থালি জিনিসের সাথে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, রুবেলের বাসভবন ‘পান্ডাত’-এর নিরাপত্তাকর্মীরা এই ফোনগুলোর দেখাশোনা করেন।
অভিনব এই আইডিয়ার নেপথ্য কারণ জানতে চাইলে তাঁর বাসভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, রুবেলের অনুপস্থিতিতেও যেন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ফোনগুলো মিস না হয়, সেজন্যই এই ব্যবস্থা। ফিতা দিয়ে ঝুলিয়ে একটি মোবাইল বেঁধে রাখা হয় তাঁর বাসার রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের সাথে এবং অপরটি রাখা হয় প্রধান আলমারির সাথে। এর ফলে নায়ক যখন বাড়িতে থাকেন না বা শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখনো তাঁর বাসার যেকোনো কর্মী বা নিরাপত্তাকর্মী খুব সহজেই ফোনগুলো রিসিভ করে প্রয়োজনীয় বার্তা বা জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন।

সংগ্রহশালায় লাখো পারফিউমের সুবাস
কেবল ফোনের নেশাই নয়, সুগন্ধির প্রতিও রুবেলের রয়েছে এক তীব্র অনুরাগ। বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের সুগন্ধি সংগ্রহ করা তাঁর অন্যতম প্রধান শখ। বলা হয়ে থাকে, তাঁর ব্যক্তিগত কালেকশনে বা সংগ্রহশালায় বিশ্বের প্রায় ১ লক্ষাধিক পারফিউম রয়েছে। দেশ-বিদেশের যেকোনো দুর্লভ পারফিউম দেখলেই তা নিজের সংগ্রহে যুক্ত করা রুবেলের দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
আজকের দিনে যখন তরুণ সমাজ নানা ধরণের ক্ষতিকর ও আজেবাজে নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ছে, তখন সুপারস্টার রুবেলের এই ফোন আর পারফিউমের মতো সৃজনশীল ও শৌখিন ‘নেশা’ এক অনন্য উদাহরণ। পর্দায় যেমন তিনি ভিলেনদের কুপোকাত করতেন, বাস্তব জীবনেও তেমনি সব ধরণের অপসংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে নিজের শখ আর শৌখিনতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই মহানায়ক।