গরমে স্বস্তির আখের রস: পুষ্টি নাকি লুকানো ঝুঁকি?

তীব্র গরমে শরীর যখন অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানি ও খনিজ হারিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন রাস্তার ধারের আখের রস অনেকেরই প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে। পুষ্টিবিদদের মতে, আখে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন, যা শরীরের তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দেয়। কিন্তু পুষ্টিগুণে ভরপুর এই প্রাকৃতিক পানীয়টি পানের ক্ষেত্রে যদি সঠিক সতর্কতা অবলম্বন না করা হয়, তবে এটি উপকারের চেয়ে শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
আখের রসের নানাবিধ পুষ্টিগুণ
পরিপাক ও লিভারের সুরক্ষায় আখের রস দারুণ কাজ করে:
-
তাৎক্ষণিক শক্তি: আখের প্রাকৃতিক শর্করা বা সুক্রোজ শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ডিহাইড্রেশন দূর করে।
-
লিভারের সুরক্ষা: জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসকেরা আখের রস পানের পরামর্শ দেন, কারণ এটি লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
-
হজমে সহায়ক: এতে থাকা পটাশিয়াম পেটের সংক্রমণ রোধ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
রাস্তার ধারের খোলা আখের রস কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
আখের রস নিজেই ক্ষতিকর নয়, তবে এটি যেভাবে তৈরি ও পরিবেশন করা হয়, সেখানেই লুকিয়ে আছে মূল বিপদ। চর্মরোগ ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞরা রাস্তার ধারের আখের রস পানের ক্ষেত্রে মারাত্মক কিছু ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন:
১. টাইফয়েড ও জন্ডিসের ছড়াছড়ি: রাস্তার পাশে উন্মুক্ত স্থানে যে পানি বা বরফ দিয়ে আখের রস তৈরি করা হয়, তা অনেক সময়ই দূষিত থাকে। এই দূষিত পানির মাধ্যমে জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ বা ই), টাইফয়েড এবং ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়ায়।
২. অপরিচ্ছন্ন মেশিন ও মাছি: রস তৈরির মাড়াই কলগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে মেশিনের লোহা ও গ্রিজের কণা রসের সাথে মিশে যেতে পারে। এছাড়া মিষ্টি রস হওয়ার কারণে এতে প্রচুর মাছি ও ধুলাবালি পড়ে, যা পেটের পীড়া তৈরি করে।
৩. দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি: আখ কাটার পর বা রস বের করার পর তা যদি দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা হয়, তবে তাতে খুব দ্রুত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন: ই-কোলাই) বংশবৃদ্ধি করে।
বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ
গরমের দিনে আখের রস অবশ্যই খাবেন, তবে নিরাপদ থাকতে পুষ্টিবিদরা কিছু নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন:
-
পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন: চোখের সামনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন উপায়ে এবং ধুয়ে রাখা আখ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা রস পান করুন।
-
বরফ এড়িয়ে চলুন: রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর ও বাণিজ্যিক বরফ সরাসরি রসে মেশাতে নিষেধ করবেন। প্রয়োজনে বাড়ি এনে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে খেতে পারেন।
-
ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কতা: আখের রসে উচ্চমাত্রায় প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি পরিহার করাই শ্রেয়।
রস পানের ক্ষেত্রে একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা করতে এবং একই সাথে রোগমুক্ত রাখতে।
দৈএনকে/জে, আ