বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Natun Kagoj

চট্টগ্রামের ৯ ওয়ার্ডে হামে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

চট্টগ্রামের ৯ ওয়ার্ডে হামে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একই সময়ে সারাদেশে প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় চট্টগ্রাম নগরীর ৯টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার (এসআইএমও) খাদিজা আহমেদ স্থানীয় সংক্রমণ পরিস্থিতির ভিত্তিতে এসব ওয়ার্ডকে হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে এবং শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোগটির বিস্তার ঘটছে।

চট্টগ্রামে চিহ্নিত হটস্পট ওয়ার্ডগুলো হলো— ২ নম্বর জালালাবাদ, ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নম্বর লালখান বাজার, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নম্বর আলকরণ, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর এবং ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসকও সংক্রমিত হয়েছেন।

এছাড়া হামের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের পাশাপাশি এখন প্রাপ্তবয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এবং শিল্পাঞ্চল এলাকায় সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে, বিশেষ করে বন্দর, পতেঙ্গা, সদরঘাট, আলকরণ, কোতোয়ালি ও বাকলিয়া এলাকায় রোগীর সংখ্যা বেশি।

চমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত অনেক শিশুর ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। একই পরিবারের একাধিক শিশু কয়েক দিনের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের অনেকের নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে।

এদিকে চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, চাঁদপুর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকাও হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

চমেক শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেড়েছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিউমোনিয়াসহ জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

বর্তমানে চমেক হাসপাতালে প্রায় ১৩০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫ জন আইসিইউতে আছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন