যেসব লক্ষণে বুঝবেন কিডনি আক্রান্ত হচ্ছে

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তবে সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগের লক্ষণ অনেক সময় খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।
কিডনির মূল কাজ হলো রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ যেমন ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়া। পাশাপাশি শরীরের তরলের ভারসাম্য রক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন এবং হাড়ের সুস্থতায় সহায়ক হরমোন তৈরিতেও কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে এসব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
কিডনি রোগের সাধারণ লক্ষণ
কিডনি সমস্যায় যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো—
-
দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা
-
পা, গোড়ালি বা চোখের নিচে ফোলা
-
প্রস্রাবের পরিমাণ বা রঙে পরিবর্তন
-
ফেনাযুক্ত প্রস্রাব
-
ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব বা বমি
-
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা চুলকানি
-
রাতে পেশিতে খিঁচুনি
-
ঘুমের সমস্যা বা মনোযোগ কমে যাওয়া
-
অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস
-
শ্বাসকষ্ট
-
জ্বর বা কাঁপুনি
-
কোমর ও পিঠে ব্যথা
কিডনির ব্যথা কোথায় হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি সংক্রান্ত ব্যথা সাধারণত কোমরের দুই পাশে বা পিঠের নিচের অংশে অনুভূত হয়। অনেকেই একে সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে ভুল করেন।
এই ব্যথার বৈশিষ্ট্যগুলো হতে পারে—
-
পাঁজরের নিচে এক বা দুই পাশে ব্যথা
-
গভীর বা চাপধরনের অনুভূতি
-
ব্যথা কুঁচকি, নিচের পেট বা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া
ব্যথার ধরনে যা বোঝা যায়
-
কিডনিতে পাথর হলে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়
-
ইনফেকশনের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়ে
প্রস্রাবে পরিবর্তনের লক্ষণ
-
ঘন ঘন বা খুব কম প্রস্রাব হওয়া
-
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা দুর্গন্ধ
-
প্রস্রাবের রং ঘোলা বা লালচে হওয়া
-
প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
-
ব্যথা ১–২ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
-
প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে
-
জ্বর বা কাঁপুনি থাকলে