গবেষণা বলছে, হাঁচি-কাশিতে ছড়াতে পারে হান্টা ভাইরাস

এতদিন ধারণা করা হতো হান্টা ভাইরাস কেবল সংক্রমিত ইঁদুরের মলমূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে নির্গত জলকণার (Droplets) সাহায্যেও এই ভাইরাস একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা দেওয়া এই ভাইরাসের প্রজাতিগুলো মানুষের শ্বাসযন্ত্রে সরাসরি আঘাত হানছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষকদের একটি দল তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হান্টা ভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (HPS) আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যারা সরাসরি কোনো ইঁদুরের সংস্পর্শে আসেননি। গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভাইরাসের কিছু নির্দিষ্ট স্ট্রেইন বাতাসের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করতে সক্ষম। এর ফলে এটি এখন আর কেবল প্রাণীুবাহিত রোগ নয়, বরং বায়ুবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
সংক্রমণের লক্ষণ ও ঝুঁকি
হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর মতো:
-
তীব্র জ্বর ও পেশিতে ব্যথা।
-
মাথাব্যথা ও শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসা।
-
সংক্রমণ বাড়লে শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসে পানি জমার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। গবেষকদের মতে, এই রোগের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, যা প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ভাইরাসের এই নতুন রূপ মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
১. মাস্ক ব্যবহার: জনাকীর্ণ স্থানে বা যেখানে ইঁদুরের উপদ্রব আছে, সেখানে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
২. পরিচ্ছন্নতা: বাড়ির আশেপাশে ময়লা-আবর্জনা জমতে দেওয়া যাবে না এবং ঘর পরিষ্কারের সময় ধুলোবালি থেকে বাঁচতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৩. দূরত্ব বজায় রাখা: যেহেতু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদিও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত হান্টা ভাইরাসের বড় কোনো প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি, তবে আন্তর্জাতিক গবেষণার এই ফলাফল সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
দৈএনকে/জে, আ