সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Natun Kagoj

বদলি হজ: শরিয়াহসম্মত বিধান ও দায়িত্ব পালনের দিকনির্দেশনা

বদলি হজ: শরিয়াহসম্মত বিধান ও দায়িত্ব পালনের দিকনির্দেশনা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি ফরজ বিধান হলো হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ করা বাধ্যতামূলক। তবে অনেক সময় দেখা যায়, একজন মানুষের পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি বার্ধক্য, জটিল রোগ বা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার কারণে হজের দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সফর করতে পারেন না। এছাড়া অনেকে হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ইসলামে ‘বদলি হজ’ বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে হজ করানোর একটি বিশেষ আইনি ও ধর্মীয় বিধান রয়েছে।

বদলি হজ আসলে কী?

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি নিজে হজে যাওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেললে বা মারা গেলে, তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে খরচ দিয়ে হজে পাঠানোকে ‘বদলি হজ’ বলা হয়। সহিহ বুখারি ও মুসলিমের একাধিক হাদিস দ্বারা এই বিধান প্রমাণিত।

কার পক্ষ থেকে বদলি হজ করা যাবে?

বদলি হজের বিধান মূলত দুই ধরনের মানুষের জন্য প্রযোজ্য:

১. স্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তি: যিনি শারীরিকভাবে এতটাই অসুস্থ বা বৃদ্ধ যে হজের সফর করার মতো সক্ষমতা তাঁর আর কখনোই ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই (যেমন: পক্ষাঘাতগ্রস্ত, অন্ধ বা অতিশয় বৃদ্ধ)। তবে সাময়িক অসুস্থতার ক্ষেত্রে বদলি হজ জায়েজ নয়, সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

২. মৃত ব্যক্তি: কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়েছিল কিন্তু তিনি তা আদায় না করেই মারা গেছেন, তাঁর ওয়ারিশ বা উত্তরসূরিদের ওপর বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হলো মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে খরচ করে তাঁর পক্ষ থেকে বদলি হজের ব্যবস্থা করা।

বদলি হজের প্রধান শর্তাবলী

বদলি হজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইসলামি আইনবিদরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নির্ধারণ করেছেন:

  • টাকার উৎস: বদলি হজের সম্পূর্ণ খরচ ওই অক্ষম বা মৃত ব্যক্তির অর্থ থেকে হতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় নিজের টাকায় অন্য কারো বদলি হজ করতে চান, তাও জায়েজ আছে।

  • যিনি হজ করবেন তাঁর যোগ্যতা: যিনি অন্য কারো পক্ষ থেকে বদলি হজ করবেন, তাঁর নিজের ওপর ফরজ হওয়া হজ আগে সম্পন্ন করা থাকতে হবে। যিনি নিজে কখনো হজ করেননি, তিনি অন্য কারো বদলি হজ করতে পারবেন না।

  • নিয়ত: ইহরাম বাঁধার সময় বদলি হজ পালনকারীকে স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে যে, তিনি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই হজ আদায় করছেন।

  • বিনিময়হীনতা: বদলি হজকে কোনো ব্যবসার মাধ্যম বানানো যাবে না। অর্থাৎ, "এত টাকার চুক্তিতে হজ করে দেব"—এমন চুক্তি করা নিষিদ্ধ। তবে হজের যাবতীয় যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ দাতা বহন করবেন।

ইসলামের এই সুন্দর বিধানটি প্রমাণ করে যে, দ্বীন ইসলাম মানুষের জন্য কতটা সহজ ও কল্যাণকর। সামর্থ্যবান হয়েও যারা পরিস্থিতির কারণে হজ করতে পারছেন না, বদলি হজের মাধ্যমে তারা হজের সওয়াব লাভ করতে পারেন।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন