জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল

ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র মাস জিলহজ্জ। এই মাসের প্রথম ১০ দিন (১-১০ জিলহজ্জ) মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং ইবাদতের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই সময়ে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ৯ই জিলহজ্জ বা আরাফার দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিনগুলোতে বিশেষ পরিকল্পনা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে মুমিনদের জন্য।
জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল
ইবাদতের এই বিশেষ মৌসুমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা:
-
বেশি বেশি জিকির: 'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'আল্লাহু আকবার' পাঠের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা।
-
আরাফার দিনের রোজা: ৯ই জিলহজ্জ রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই দিনের রোজা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়।
-
তওবা ও ইস্তেগফার: প্রতিদিন নিজেকে গুনাহ থেকে মুক্ত করতে খাঁটি নিয়তে তওবা করা।
-
দান-সদকা ও কোরবানি: এই ১০ দিন সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি বেশি দান করা এবং সক্ষম হলে কোরবানি করা। এছাড়া ১ থেকে ১০ জিলহজ্জ পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটা সুন্নাত।
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তসমূহ
জিলহজ্জ মাসে দোয়া কবুলের জন্য কিছু সময় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে চাইলে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি:
১. আরাফার দিন (৯ জিলহজ্জ): এই দিনটি দোয়ার জন্য বছরের শ্রেষ্ঠ দিন, বিশেষ করে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।
২. রাতের শেষ তৃতীয়াংশ: তাহাজ্জুদের সময় মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার ডাক শোনেন।
৩. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়: এই সময়ে করা দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
৪. সেজদারত অবস্থায় ও ফরজ নামাজের পর: বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে থাকে।
৫. ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত: রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের আগের দোয়া অত্যন্ত কবুলযোগ্য।
ধর্মতত্ত্ববিদদের মতে, এই দিনগুলো যেন অবহেলায় না কাটে, সেজন্য প্রতিটি মুসলিমের উচিত ইবাদতের একটি বিশেষ রুটিন তৈরি করা।
দৈএনকে/জে, আ