স্বর্ণের দাম বাড়ায় বাজারে নতুন গতি

আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, পাশাপাশি ইরান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০৭ দশমিক ০৮ ডলারে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭১৩ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, “বর্তমানে স্বর্ণের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সবাই যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠকের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে।” তিনি আরও বলেন, বাজারে কিছু নিম্নমুখী চাপ থাকলেও এটি নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকের শুরুতে জানান, দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে মতপার্থক্য সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইতে পারে, তবে বেইজিং থেকে পূর্ণ সমর্থন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে উৎপাদক মূল্যস্ফীতি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পণ্য ও সেবার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
এছাড়া মার্কিন সিনেট কেভিন ওয়ার্শকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এতে সুদের হার কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, এ বছর সুদের হার কমার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বরং ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদের হার এই বাজারে চাপ সৃষ্টি করে।
এদিকে ভারতে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ বাড়ায় দেশটিতে স্বর্ণে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যছাড় তৈরি হয়েছে, যা প্রতি আউন্সে ২০০ ডলারের বেশি।
অন্যদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৭.৩৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ০.৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ১২৬.৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৯৮.২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দৈএনকে/জে, আ