মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে চিরবিদায় টেপরী রাণীর

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭০) দেহত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় স্থানীয় শ্মশানে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁর জীবনের করুণ অধ্যায় ও ত্যাগকে স্মরণ করে স্থানীয় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে শেষ বিদায় জানানো হয় এই বীর নারীর প্রতি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেপরী রাণী ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন। যুদ্ধকালীন অস্থির সময় ও সামাজিক বাস্তবতার কঠিন চাপে তাঁর জীবনে নেমে আসে এক গভীর ট্র্যাজেডি। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় নানা সামাজিক অবহেলা ও কষ্টের মধ্যেও জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যান।
মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি সন্তানসহ ফিরে আসেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন গড়ে তোলেন। পরিবার ও সন্তানের প্রতি তাঁর সংগ্রামী ভূমিকা স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পেলেও ২০১৭ সালে তিনি বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, মৃত্যুর পর যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে বিদায় জানানো হয় এবং লাল-সবুজের পতাকায় তাঁর দেহ আচ্ছাদিত করা হয়।
সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরাঙ্গনাদের ত্যাগ ও অবদান জাতির জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দৈএনকে/জে, আ