২০২৬ বিশ্বকাপে আসছে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খেলার নিয়মে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব ও সংশোধন সামনে এসেছে। ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং ফিফার লক্ষ্য হলো খেলার গতি বাড়ানো, সময় নষ্ট কমানো এবং মাঠে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনার মতে, আধুনিক ফুটবলের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ম্যাচ পরিচালনাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান
ম্যাচ চলাকালে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড় যদি নিজের মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন, তাহলে রেফারিরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন। বর্ণবাদী মন্তব্য বা অসদাচরণ রোধে এ ধরনের আচরণ বিশেষ নজরদারির আওতায় থাকবে।
প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ ছাড়লে শাস্তি
রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে কোনো খেলোয়াড় বা দল মাঠ ত্যাগ করলে তা গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে লাল কার্ডসহ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং ম্যাচের ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে।
সময়ক্ষেপণ ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ
থ্রো-ইন, গোল-কিক কিংবা অন্যান্য রিস্টার্টের ক্ষেত্রে অযথা সময় নষ্ট রোধে নির্দিষ্ট সময়সীমা কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। রেফারিরা প্রয়োজন হলে দৃশ্যমান গণনার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দ্রুত খেলা শুরু করতে উৎসাহিত করবেন।
বদলি খেলোয়াড়দের দ্রুত মাঠ ত্যাগের নির্দেশনা
খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময় মাঠ ছাড়তে বিলম্ব করলে তা আর সহজে গ্রহণযোগ্য হবে না। বদলি প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করতে নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে, যাতে ম্যাচের গতি বজায় থাকে।
চিকিৎসা শেষে সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে থাকতে হবে
চোটের কারণে চিকিৎসা নেওয়া আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় মাঠের বাইরে অপেক্ষা করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুরুতর আঘাত বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম থাকবে।
ভিএআরের ভূমিকা আরও বিস্তৃত
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও কার্যকর করা হচ্ছে। ভুল কার্ড প্রদর্শন, খেলোয়াড় শনাক্তকরণে ভুল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে ভিএআর রেফারিদের অতিরিক্ত সহায়তা দেবে।
গরম আবহাওয়ায় বাধ্যতামূলক পানি বিরতি
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময় পর পানি পানের বিরতি রাখা হবে। বিশেষ করে উষ্ণ আবহাওয়ায় এটি খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চিকিৎসার সময় কোচিংয়ে সীমাবদ্ধতা
গোলরক্ষক চিকিৎসাধীন থাকলে সেই সুযোগে পুরো দলকে সাইডলাইনে ডেকে কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ সীমিত করা হবে। এর মাধ্যমে ম্যাচের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বিশ্বাস, এসব পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে ম্যাচ পরিচালনা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং দর্শকবান্ধব হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু নতুন চ্যাম্পিয়নের সন্ধানই নয়, নতুন নিয়মের পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবেও আলোচনায় থাকবে।