পদ্মা রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ‘পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প’ নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অডিট প্রতিবেদন, প্রশাসনিক সূত্র এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে প্রায় ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও বর্তমান রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
২০১৬ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় পদ্মা রেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকায়। এ অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধিকে ঘিরে শুরু থেকেই প্রকল্পটি বিতর্কে রয়েছে।
সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল, কাজের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ, মাটি ভরাট ও নির্মাণকাজে অনিয়মসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে শত কোটি থেকে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
অডিট আপত্তিতে আরও বলা হয়, কিছু কাজ বাস্তবায়নে প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং বিশেষায়িত চুক্তির কারণে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, স্টেশন নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্পের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানোর বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকায় ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পটি জটিল ও বৃহৎ হওয়ায় ব্যয় ও নকশা সংশোধন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রকল্পের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটির পরিকল্পিত সক্ষমতা অনুযায়ী পুরোপুরি ব্যবহার এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে এর আর্থিক কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, প্রকল্পের বাস্তবায়ন, ব্যয় কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।