রাজউকে অনিয়ম-দুর্নীতির রাজা-রানী সবুজ-মলি: ফাইল বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর দুই কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম সবুজ ও ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজ দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও ফাইল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। ১৯৯৮ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
সূত্রের অভিযোগে বলা হয়, একই প্লট একাধিক ব্যক্তির কাছে বরাদ্দ, ফাইল গায়েব এবং কাজের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত। এছাড়া তার নামে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অন্যদিকে, জোন-৫ এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি, ফাইল আটকে রাখা এবং নথি ছাড়াতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও সেবা কার্যক্রমে হয়রানির শিকার হতে হয় অনেককে।
একাধিক অভিযোগে বলা হয়েছে, মলির নামে পূর্বাচলসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্পদ রয়েছে, যা তার সরকারি আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এসব দাবির পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
রাজউকের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে চান না। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ কিছু অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া সীমিত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে ফাতেমা বেগম মলির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, রাজউকের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ বর্তমানে তদন্ত ও যাচাইয়ের দাবি তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।