শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মোজতবা খামেনিকে ঘিরে ইরানের ক্ষমতায় প্রভাবশালী ‘ব্রাদারহুড’ নেটওয়ার্ক নজরুল জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে শনিবার ময়মনসিংহে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা শহরজুড়ে দেশজুড়ে বাড়ছে হাম সংক্রমণ, ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু পদ্মা রেল প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ঈদ সামনে রেখে বাজারে অস্বস্তি, মাছের দাম চড়া জলবায়ু লড়াইয়ে একসঙ্গে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় এসেই বাংলাদেশের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন থমাস ডুলি রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে রেমিট্যান্সে জোয়ার, ২০ দিনে এলো ৩২ হাজার কোটি টাকা
  • সিমুলেশন খাতে আধিপত্য বিস্তার, আলোচনায় সাব্বির মাদানি গ্রুপ

    সিমুলেশন খাতে আধিপত্য বিস্তার, আলোচনায় সাব্বির মাদানি গ্রুপ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সরকারি চাকরিজীবী হয়েও দেশের সিমুলেটর স্থাপন খাতে একক আধিপত্যবিস্তারনামে-বেনামে একাধিক কোম্পানি পরিচালনা, আত্মীয়ের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে সরকারি টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়া, দরপত্রে জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদের বিরুদ্ধে। 

    নৌখাত ও ঠিকাদার মহলে তিনি বেশি পরিচিত ‘সাব্বির মাদানি’ নামে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারি চাকরিতে থেকে সরাসরি ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় তিনি তার আপন শ্যালক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কাজী হাবিবুল হোসেনের নামে “ইরেকটর্স” নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, পর্দার আড়াল থেকে প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ 
    নিজেই।

    আবাসন ব্যবসা থেকে সিমুলেশন সাম্রাজ্য:

    সূত্র বলছে, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির নটিক্যাল বিভাগের প্রশিক্ষক থাকাকালীন আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন সাব্বির মাহমুদ। ওই ব্যবসায় লোকসানের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার নামে নেওয়া কয়েক কোটি টাকা তিনি দীর্ঘদিন পরিশোধ করতে পারেননি। 

    তবে নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই দেনা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সিমুলেশন ব্যবসায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। মেরিন একাডেমির সাবেক কমান্ড্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সাজিদ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার সিমুলেটর স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এতে সহায়তা করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান “এআরআই সিমুলেশন”।

    পরবর্তীতে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটেও একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিমুলেশন স্থাপনের কাজ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সহযোগিতা করেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমানে কানাডা প্রবাসী ক্যাপ্টেন ফয়সাল আজিম।

    বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ:

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ রিজিওনাল ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট-১ এর আওতায় “প্রোকিউরমেন্ট অব ফুল মিশন ব্রিজ সিমুলেটর উইথ ফিশিং এন্ড ড্রেজিং এন্ড ফুল মিশন সিমুলেটর উইথ ইঞ্জিন এন্ড লিকুইড কার্গো হ্যান্ডেলিং ফিচারস ফর ডিইপিটিসি নারায়ণগঞ্জ” শীর্ষক দরপত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এআরআই-ইরেকটর্স জয়েন্ট ভেঞ্চার নামে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটির পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের স্পেসিফিকেশন তৈরিতেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি।

    পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুযায়ী দরপত্রের স্পেসিফিকেশন তৈরির দায়িত্ব প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের হলেও, অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই গোপনে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে সেই স্পেসিফিকেশন ব্যবহার করেই টেন্ডারে অংশ নেয় এআরআই-ইরেকটর্স জেভি।

    এ ঘটনায় প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ট্রেড লাইসেন্সে জালিয়াতির অভিযোগ:

    অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এআরআই-ইরেকটর্স জয়েন্ট ভেঞ্চারের নামে দুইবার ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ সুবিধা ও দরপত্রে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করা হয়।

    স্বাক্ষর ছাড়াই টেন্ডার জমা!

    অভিযোগ অনুযায়ী, এআরআই-ইরেকটর্স জয়েন্ট ভেঞ্চার দরপত্র দাখিলের সময় প্রয়োজনীয় সীল ও স্বাক্ষর ছাড়া ডকুমেন্ট জমা দেয়। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে প্রকল্প পরিচালকের অফিসে গোপনে এসব নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, বিপুল সংখ্যক নথিতে স্বাক্ষর করার সময় কাজী হাবিবুল হোসেন কিছু অংশে স্বাক্ষর করলেও বাকি অংশে তার কর্মচারী জাল সই করেন। পিপিআর ২০০৮-এর ধারা ৩০(৪) অনুযায়ী যথাযথভাবে স্বাক্ষরিত না হলে দরপত্র বাতিলযোগ্য। একইসঙ্গে ধারা ১২৮ অনুযায়ী ভুয়া বা অকার্যকর নথি জমা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করার বিধান রয়েছে।

    বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বাধা

    অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কারণে নরওয়ের কনসবার্গসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি। প্রি-বিড মিটিংয়ে এসব প্রতিষ্ঠান আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এমনকি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাঠানো ইমেইলের উত্তরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাই তৈরি করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বিশ্বব্যাংকের প্রকিউরমেন্ট নীতিমালা অনুযায়ী সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রকল্পটিকে “মিস-প্রোকিউরমেন্ট” ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে।

    সিন্ডিকেটের বিস্তার

    অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মেরিন একাডেমি, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সিমুলেশন খাত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এই সিন্ডিকেটে সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি কোম্পানি ও প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট ইতোমধ্যে এই চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলে ও তিনি কোনো সাড়া দেননি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন