মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার ঘটনায় আটক ৩

রাজধানীর মুগদা এলাকায় এক ব্যক্তির মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের সাতটি অংশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর পাশের এলাকা থেকে মাথাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে মান্ডা আবদুল গনি রোডের একটি বাড়ির নিচতলা থেকে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পলিথিনে মোড়ানো সাতটি খণ্ড উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটি ভয়াবহভাবে খণ্ডিত ছিল। তাদের ধারণা, হত্যার পর অন্য কোথাও থেকে লাশ এনে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যরাতে পার্শ্ববর্তী মানিকনগর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে নিহত ব্যক্তির মাথা উদ্ধার করা হয়।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ বিশ্বাস জানান, মামুনের বাড়ির পাশের ৫৭ নম্বর বাড়ির গলির ভেতর থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত ব্যক্তি একজন পুরুষ। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মান্ডা প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে প্রথমে সাত খণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় মাথা পাওয়া যায়নি। পরে পাশের ময়লার স্তূপে তল্লাশি চালিয়ে মাথা উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে এসেছিল।
তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ছয় দিন আগে অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে ভরে ওই ভবনের বেজমেন্ট ও আশপাশে ফেলে রাখা হয়।
মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে এখনো নিহত ব্যক্তির একটি হাতের অংশ উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।