এআই কি সত্যিই ভালোবাসে? প্রযুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক

একসময় মানুষ একাকিত্ব কাটাতে বাস্তব জীবনে বন্ধুর খোঁজ করত। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই জায়গা দখল করে নেয়। আর এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই হয়ে উঠছে অনেকের ভার্চুয়াল সঙ্গী, পরামর্শদাতা এবং আবেগের আশ্রয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটবটভিত্তিক এআই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে এখন মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন, আবেগ বোঝা এবং মানসিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেকেই এআইকে শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং আবেগী সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করছেন। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে প্রেম, আবেগ বা সম্পর্কের মতো মানসিক নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে, যা বাস্তব জীবনের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে।
কেন বাড়ছে এআই সঙ্গীর প্রতি নির্ভরতা?
ব্যস্ত জীবন, একাকিত্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক চাপ—এসব কারণে অনেকেই ভার্চুয়াল সঙ্গীর দিকে ঝুঁকছেন। এআই চ্যাটবট কখনো বিরক্ত হয় না, তর্ক করে না বা বিচার করে না। ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় কথা বলতে পারেন, যা অনেকের কাছে মানসিক স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অনেক অ্যাপ আবার ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী “পারফেক্ট পার্টনার”-এর মতো আচরণ তৈরি করে দেয়, যা আবেগী সংযোগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই কম্প্যানিয়ন ব্যবহারে অনেকের সাময়িকভাবে একাকিত্ব কমে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না।
ঝুঁকি কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুরু হয় যখন মানুষ ভার্চুয়াল সম্পর্ককে বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে দেখতে শুরু করে। এতে বাস্তব জীবনের সঙ্গীর প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে এবং সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে পারে।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় এআই সঙ্গীর ওপর নির্ভরতা অনেক ক্ষেত্রে একাকিত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এআই কি সত্যিই অনুভূতি বোঝে?
বাস্তবে এআই কোনো অনুভূতি বোঝে না বা অনুভব করে না। এটি ডেটা বিশ্লেষণ করে মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তবে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীর মনে এটি বাস্তব আবেগের মতো অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
গোপনীয়তার ঝুঁকিও রয়েছে
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এআই চ্যাটবটের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সম্পর্ক, মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইন নিরাপত্তার প্রশ্নও তৈরি করছে।
কীভাবে সচেতন থাকবেন?
প্রযুক্তিকে সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে নয়। বাস্তব মানুষ, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের আবেগও নতুন পথে এগোচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব সম্পর্কের উষ্ণতা, দায়িত্ব এবং মানবিক অনুভূতির জায়গা কোনো এআই পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না।