মহাকাশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম লাইকা

আজ ৬৭ বছর হয়ে গেছে, সেই দিন থেকে যখন কুকুর লাইকা পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশের অজানায় যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু এত বছর পরও তার গল্প মানবজাতির বিবেকের উপর এক অনুত্তরিত প্রার্থনার মতো ভার হয়ে আছে।
লাইকা শুধুমাত্র একটি কুকুর ছিল না; সে ছিল এক বিশ্বাসের প্রতীক। মানুষের প্রতি তার নিঃশর্ত ভরসা এবং ধৈর্য তাকে মহাকাশে পাঠানোর জন্য নির্বাচিত করেছিল। আসলে তার আসল নাম ছিল কুদ্রিয়াভকা, যার অর্থ ‘কোঁকড়ানো’। রাশিয়ার এক বেওয়ারিশ কুকুর থেকে লাইকা হয়ে উঠেছিল মানব আকাঙ্ক্ষার একটি নিঃস্বরূপ প্রতীক।
১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর, স্পুটনিক-২-এর ভেতরে লাইকা সিল করা হয়। ক্যাপসুলে ছিল খাবার, পানি এবং নরম দেয়াল, কিন্তু নেই কোনো পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি তার পৃথিবীতে ফেরার জন্য। কয়েক ঘণ্টা না হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই লাইকা মারা যায়। মহাকাশের নীরবতায় তার শেষ মুহূর্তগুলো কেটেছিল একা—একটি গ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে করতে, যা সে আর কখনও ছুঁতে পারবে না।
লাইকা পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিল মোট ২,৫৭০ বার। কয়েক মাস পরে, তার ক্যাপসুল পুনঃপ্রবেশের সময় আগুনে পুড়ে যায়। এই ঘটনা তাকে ইতিহাসে স্থায়ী করে দিয়েছে।
লাইকা কখনও অগ্রদূত হতে চায়নি, স্মরণীয় হতে চায়নি। বিজ্ঞান, রাজনীতি বা গৌরবের অর্থ সে জানত না। তার একমাত্র পরিচয় ছিল বিশ্বাস—মানুষের প্রতি নিঃশর্ত ভরসা। সেই বিশ্বাসেই লাইকা হয়ে উঠল প্রথম জীবিত প্রাণী, যিনি পৃথিবী এবং নক্ষত্রের মাঝের দূরত্ব অতিক্রম করেছেন।
আজও লাইকা মানবজাতির সাহস, ধৈর্য ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বেঁচে আছে।