শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • পৃথিবীর ভূ-স্তর কেন ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে?

    পৃথিবীর ভূ-স্তর কেন ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চিন্তা করুন, আপনি ভারত মহাসাগরের একান্ত নির্জন দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছেন। চারপাশে মাইলের পর মাইল শুধু জল—কোনো মহাদেশ বা বিশাল ভূখণ্ডের চিহ্ন নেই। তবুও, সেই দ্বীপের মাটি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এখানে থাকা পাথরগুলো একসময় কোনো বিশাল মহাদেশের অংশ ছিল।

    ব্যাপারটা অদ্ভুত না? মহাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরের দ্বীপে মহাদেশীয় উপাদান এল কোথা থেকে? ভূতত্ত্ববিদেরা বহু বছর ধরে এই ধাঁধার উত্তর খুঁজছিলেন। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই রহস্যের জট খুলেছেন। তাঁরা বলছেন, পৃথিবীর মহাদেশগুলো আসলে নিচ থেকে ক্ষয়ে যাচ্ছে!

    গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে। সেখানে বলা হয়েছে, পৃথিবীর মাটির ১৫০-২০০ কিলোমিটার গভীরে ঘটছে এক অদ্ভুত ঘটনা।

    আমরা জানি, পৃথিবী কতগুলো বিশাল প্লেটের ওপর ভেসে আছে। একে বলা হয় টেকটনিক প্লেট। এই প্লেটগুলো যখন সরে যায় বা মহাদেশগুলো যখন ভেঙে আলাদা হতে থাকে, তখন মাটির গভীরে থাকা উত্তপ্ত ম্যান্টল বা লাভা স্তরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ম্যান্টল ওয়েভ।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন, পৃথিবীর মহাদেশগুলো আসলে নিচ থেকে ক্ষয়ে যাচ্ছে! গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে।

    ব্যাপারটা অনেকটা কাঠ চেঁছে ফেলার মতো। টেকটনিক প্লেট সরে যাওয়ার সময় এই ম্যান্টল ওয়েভ মহাদেশের তলদেশ থেকে উপাদান চেঁছে আলাদা করে ফেলে। এই প্রক্রিয়াটি কিন্তু চোখের পলকে ঘটে না। এটি চলে অত্যন্ত ধীরগতিতে। গবেষকরা তুলনা করে বলেছেন, শামুক যে গতিতে চলে, এই প্রক্রিয়াটি তার চেয়েও দশ লাখ গুণ ধীরে কাজ করে!

    কিন্তু এই অতি ধীর গতিতেই মহাদেশের তলদেশ থেকে খসে পড়া উপাদানগুলো লাভা স্রোতের সঙ্গে মিশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে ভেসে যায়। আর এভাবেই মহাদেশের পাথর বা খনিজ উপাদান সমুদ্রের মাঝখানের আগ্নেয়গিরি বা দ্বীপে গিয়ে জমা হয়।

    কোটি কোটি বছর ধরে সমৃদ্ধ ম্যান্টেল কীভাবে জমা হয় তা চিত্রে দেখানো হয়েছে

    কোটি কোটি বছর ধরে সমৃদ্ধ ম্যান্টেল কীভাবে জমা হয় তা চিত্রে দেখানো হয়েছে

    এতদিন বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, হয়তো সাবডাকশন প্রক্রিয়ায় এমনটা হয়। মানে একটি প্লেট আরেকটির নিচে ঢুকে গিয়ে গলে যায়। অথবা মাটির গভীর থেকে উঠে আসা লাভা এর জন্য দায়ী। কিন্তু সমস্যা হলো, সব জায়গায় এই তত্ত্ব মিলছিল না।

    কারণ, সমুদ্রের তলদেশের অনেক জায়গায় এমন সব পাথরের মিশ্রণ পাওয়া গেছে, যা এই দুই প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। তবে নতুন এই গবেষণার ফলাফল সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে।

    বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, হয়তো সাবডাকশন প্রক্রিয়ায় এমনটা হয়। মানে একটি প্লেট আরেকটির নিচে ঢুকে গিয়ে গলে যায়। অথবা মাটির গভীর থেকে উঠে আসা লাভা এর জন্য দায়ী।

    গবেষকেরা এই তত্ত্ব প্রমাণের জন্য ভারত মহাসাগরের নিচে লুকিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরি এবং পাহাড়ের সারি পরীক্ষা করেছেন। বিশেষ করে ক্রিসমাস আইল্যান্ডের কথা গবেষণায় বলা হয়েছে। আজ থেকে প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে যখন বিশাল সুপারকন্টিনেন্ট গন্ডোয়ানা ভেঙে আলাদা হচ্ছিল, তখন এই পিলিং প্রক্রিয়াটি ঘটেছিল। মহাদেশ ভেঙে যাওয়ার পরেও প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে এই ম্যান্টল ওয়েভ সক্রিয় ছিল এবং মহাদেশীয় উপাদানগুলো সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে দিয়েছিল।

    মহাদেশের স্ফটিকের শিকড় সরিয়ে দিলে, তা সমুদ্রের ম্যান্টলে পাশাপাশি ভেসে বেড়ায়-ভূতত্ত্বের এই নতুন রহস্য ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের

    মহাদেশের স্ফটিকের শিকড় সরিয়ে দিলে, তা সমুদ্রের ম্যান্টলে পাশাপাশি ভেসে বেড়ায়-ভূতত্ত্বের এই নতুন রহস্য ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের ছবি: টম গারনন

    শুধু সমুদ্রের দ্বীপে মহাদেশের পাথর আছে তা-ই নয়, এই ম্যান্টল ওয়েভ আরও দুটি বিশাল কাজ করেছে, যা বিজ্ঞানীরা আগে জানতেন না। প্রথমত, মাটির গভীর থেকে হীরাসমৃদ্ধ ম্যাগমা বা লাভা ওপরে উঠে আসার পেছনেও এই ঢেউয়ের ভূমিকা আছে। আর দ্বিতীয়ত, এই ঢেউগুলো মহাদেশের সমতল অংশকে নিচ থেকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচু করে দিতে পারে। পৃথিবীর বড় বড় মালভূমি বা পাহাড় তৈরির পেছনেও এই ধীরগতির ঢেউয়ের ভূমিকা রয়েছে।

    আসলে পৃথিবীটা বাইরে থেকে যত শান্ত মনে হয়, গভীরে ততটা নয়। পৃথিবীর গভীরে প্রতিনিয়ত চলছে ভাঙা-গড়ার খেলা। এই গবেষণা তারই এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করল।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ