কৃত্রিম সুখ কখনোই জীবনের বিকল্প হতে পারে না

গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন
১৯৫০ সালের এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় একটি ইঁদুর দেখিয়েছিল কৃত্রিম সুখের ভয়ঙ্কর প্রভাব। লাল বোতাম চাপলেই তা অনন্য আনন্দের অনুভূতি দিত, কিন্তু এক সময় সেই সুখই ইঁদুরের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আজ সেই গল্প আমাদের প্রতিফলন হিসেবে স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম আনন্দের যুগে প্রতিদিনের জীবনকে দেখায়। আমরা কি ইঁদুরের মতো নিজের সময়, সম্পর্ক ও স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছি?
১৯৫০ সালের আমেরিকা:
- বিজ্ঞানীরা একটি ইঁদুরকে বিশেষ কাঁচের খাঁচায় রাখেন।
- খাঁচার ভেতরে একটি লাল বোতাম স্থাপন করা হয়।
- বোতাম চাপলেই ইঁদুরের মস্তিষ্কে পৌঁছে যেত প্রচুর ডোপামিন, যা তীব্র সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করত।
পরীক্ষার প্রক্রিয়া:
- প্রথমে ইঁদুরটি ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
- ভুলক্রমে তার পা লাল বোতামের ওপর পড়লে মুহূর্তেই আনন্দের অনুভূতি পেল।
- বোতাম চাপে সে এই সুখের উৎস খুঁজে পেল এবং বারবার বোতাম চাপতে শুরু করল।
পরিস্থিতি কঠিন করা হলো:
- খাঁচায় দামী খাবার রাখা হলো।
- নিঃসঙ্গতা দূর করার জন্য একজন স্ত্রী ইঁদুরও খাঁচায় রাখা হলো।
- কিন্তু ইঁদুরটি খাবার খেল না, সঙ্গিনীর কাছে গেল না; শুধু লাল বোতাম চাপতে লাগল।
পরিণতি:
- এক পর্যায়ে ইঁদুরের শরীর দুর্বল হয়ে গেল।
- মৃত্যু আসলেও ইঁদুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লাল বোতাম চাপা চালিয়ে গেল।
আজকের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা:
- সেই লাল বোতামের জায়গায় এখন আমাদের হাতে এসেছে স্মার্টফোন বা স্ক্রিন।
- আমরা কি সেই স্ক্রিনে সুখ খুঁজে নিজেদের সময়, আবেগ ও মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করছি?
- খাবারের টেবিলে, পারিবারিক সময় কিংবা রাতের ঘুমের সময় আমরা কি মনোযোগ দিচ্ছি না?
- ইঁদুরের মতো, আমরা কি কৃত্রিম সুখের নেশায় নিজেদের জীবন দিচ্ছি?
আমাদের সময়, সম্পর্ক এবং স্বাস্থ্যকে কৃত্রিম সুখের জন্য উৎসর্গ করা উচিত নয়। সঠিক ব্যালান্স বজায় রেখে প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন।
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন