কাজের মাঝেই ঘুম? জাপানে এটি স্বাভাবিক ও সম্মানের চিহ্ন

জাপানে বিদেশিরা প্রথমে অবাক হন—অফিসে, মিটিংয়ে বা ট্রেনে মানুষ ঘুমাচ্ছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না। জাপানের এই বিশেষ ঘুমকে বলা হয় ‘ইনেমুরি’ (居眠り), যার অর্থ দাঁড়ায়—“নিজের জায়গায় থেকেই ঘুমিয়ে পড়া”। এটি অলসতা নয়, বরং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চিহ্ন।
ইনেমুরি শব্দটি এসেছে জাপানি দুটি কানজি থেকে—居 (i) মানে ‘থাকা’ বা ‘উপস্থিত থাকা’, এবং 眠り (nemuri) মানে ‘ঘুম’। অর্থাৎ, শরীর বিশ্রাম নিচ্ছে, কিন্তু ব্যক্তি এখনো দায়িত্বের মধ্যে।
ইতিহাস বলছে, ইনেমুরির শুরু এদো যুগ (১৬০৩–১৮৬৮) থেকে। দীর্ঘ কাজের সময়, দায়িত্ব ও কোম্পানির প্রতি নিঃশর্ত সমর্পণ ইরুপ ঘুমকে স্বাভাবিক করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশেষ করে ১৯৫০–৭০-এর দশকে লং ওয়ার্কিং আওয়ার্স ও লাইফটাইম এমপ্লয়মেন্ট এই কালচারকে আরও সাধারণ করে তোলে।
ইনেমুরি সামাজিক বার্তা দেয়—“আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি, শরীর একটু বিশ্রাম চাইছে।” তবে এটি কেবল চুপচাপ, নিয়ন্ত্রিতভাবে হওয়া উচিত; চেয়ার হেলানো, নাক ডাকা বা মিটিংয়ে বিঘ্ন ঘটানো ইনেমুরি নয়, অসভ্যতা।
জাপানের অফিস সংস্কৃতিতে এটি অপমান নয়; বরং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চিহ্ন। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন ঘুম সাধারণত অনুমোদিত নয়। বাংলাদেশে কাজের জায়গায় ঘুমানোকে প্রায়ই অপেশাদার বা অশিষ্ট আচরণ হিসেবে ধরা হয়।
জাপানে কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে এই কালচারটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখবেন, ইনেমুরি কাজের বিকল্প নয়, বরং কাজের ফল।