শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • জানুয়ারির পূর্ণিমায় উলফ সুপারমুন, চাঁদ হবে বড় ও উজ্জ্বল

    জানুয়ারির পূর্ণিমায় উলফ সুপারমুন, চাঁদ হবে বড় ও উজ্জ্বল
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি পূর্ণ উলফ সুপারমুন আকাশে দেখা যাবে। পূর্ণিমার সময় যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানে আসে, তখন তাকে বলা হয় সুপারমুন। চাঁদের এই সবচেয়ে কাছের অবস্থানকে বলা হয় পেরিজি। এদিন চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬২,৩১২ কিলোমিটার দূরে থাকবে। 

    এর ফলে চাঁদকে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল মনে হবে, তুলনায় যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে। এই দূরত্ব ডিসেম্বর ২০২৫-এর পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে সামান্য বেশি হলেও, অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে উজ্জ্বলতার ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে।

    এই বছরের উলফ সুপারমুন পৃথিবীর পেরিহেলিয়ন-এর খুব কাছাকাছি সময়েই ঘটছে। পেরিহেলিয়ন হলো সেই সময়, যখন পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। এই সময়ে পৃথিবী সূর্যের প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেশি কাছে থাকে, ফলে সূর্যের আলো একটু বেশি পরিমাণে পৃথিবী ও চাঁদের ওপর পড়ে। এতে চাঁদের উজ্জ্বলতা আরও বাড়ে।

    শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, তাই আকাশ সাধারণত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ হয়। উত্তর গোলার্ধে ৩ জানুয়ারি রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে চাঁদ দেখার জন্য এটি হতে পারে দারুণ এক সুযোগ। কোনো বিশেষ যন্ত্রের দরকার নেই—শুধু নিজের চোখ আর গায়ে জড়ানোর মতো একটা কম্বলই যথেষ্ট।

    সুপারমুন আসলে চাঁদের কক্ষপথের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের ফল। চাঁদের কক্ষপথ পুরো গোল নয়, একটু ডিম্বাকৃতির। তাই কখনো চাঁদ পৃথিবীর কাছাকাছি আসে, কখনো দূরে যায়। গড়ে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩৮৪,৪০০ কিলোমিটার।

    চাঁদ যখন সবচেয়ে কাছে আসে, সেটাই পেরিজি। বছরে প্রায় ১৩ বার এমনটা ঘটে। তবে প্রতিবার পেরিজির সময় সুপারমুন হয় না। শুধু তখনই সুপারমুন বলা হয়, যখন পেরিজির সময় পূর্ণিমা বা অমাবস্যা হয়।

    আরও মজার বিষয় হলো, পেরিজির দূরত্ব সব সময় এক রকম থাকে না। সূর্যের মহাকর্ষীয় টান এবং পৃথিবী-চাঁদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের পরিবর্তনের কারণে এই দূরত্ব কিছুটা বদলায়।

    পেরিহেলিয়নও একই ধরনের একটি ঘটনা, তবে এটি পৃথিবী ও সূর্যের কক্ষপথের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি বছর জানুয়ারির শুরুতে, সাধারণত ৩ তারিখের কাছাকাছি সময়ে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে আসে। তখন পৃথিবী সূর্য থেকে প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে থাকে, যা গড় দূরত্বের চেয়ে কিছুটা কম।

    এর ফলে সূর্যের শক্তি পৃথিবী ও চাঁদে একটু বেশি পৌঁছায়, এবং পূর্ণিমার চাঁদ সবচেয়ে দূরের অবস্থানের তুলনায় প্রায় ৬.৫ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখায়।

    জানুয়ারির পূর্ণিমার চাঁদকে বলা হয় উলফ মুন। এবছর এই উলফ মুন একসঙ্গে আরও দুটি মহাজাগতিক ঘটনার সঙ্গে মিলিত হওয়ায় এটি হয়ে উঠছে সত্যিই বিশেষ—এক ধরনের বিরল তিনগুণ উজ্জ্বলতার আয়োজন।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের আগে আর কোনো পূর্ণ সুপারমুন দেখা যাবে না। তাই সুযোগ পেলে এই জানুয়ারির উলফ সুপারমুন উপভোগ করে নেওয়াই ভালো।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ