সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংসতা ও উসকানি বন্ধের আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়া কনটেন্ট এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার প্রচেষ্টা রোধে মেটাকে চিঠি দিয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA) শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) মেটাকে এই চিঠি প্রেরণ করে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে থাকা বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো সহিংসতা উসকানি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এর ফলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী ওসামান হাদির মৃত্যুকে সমর্থন ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান দিয়েছে। এসব উসকানিমূলক কনটেন্টের পর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার ও নাগরিক সমাজ বারবার অনুরোধ করলেও মেটা উসকানিমূলক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে সাড়া দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জীবন, গণতান্ত্রিক অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
NCSA মেটাকে আহ্বান জানিয়েছে—বাংলাদেশ সম্পর্কিত কনটেন্টে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ, বাংলা ভাষাভিত্তিক কনটেন্ট মডারেশন, অনুভূতি বিশ্লেষণ এবং সহিংসতা, ভয়ভীতি বা সংগঠিত ক্ষতির আহ্বানমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংসতার আহ্বানমূলক পোস্ট হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলে সরাসরি রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: 01308332592, ই-মেইল: notify@ncsa.gov.bd।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট সরাসরি ডিলিট করতে পারবে না; তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে প্ল্যাটফর্মের কাছে রিপোর্ট করতে পারে। হেট স্পিচ বা সরাসরি সহিংসতা আহ্বান জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
NCSA সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়াকে সহিংসতা বা ভায়োলেন্স তৈরির টুল হিসেবে ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং দেশের নাগরিক, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন থাকুন।