বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • স্মার্টফোন কি সত্যিই আপনাকে নজরদারি করছে?

    স্মার্টফোন কি সত্যিই আপনাকে নজরদারি করছে?
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোন এখন অপরিহার্য সঙ্গী। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে কাজ, যোগাযোগ, কেনাকাটা—সবকিছুতেই এর ব্যবহার। তবে এই সুবিধাজনক ডিভাইসটিই অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর অবস্থান, চলাফেরা ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কিত বিপুল তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না, তাদের আচরণ ও অবস্থান বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হচ্ছে।

    কীভাবে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে

    স্মার্টফোনে থাকা জিপিএস, মোবাইল নেটওয়ার্কের সেল টাওয়ার, ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং ব্লুটুথ সিগন্যালের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নির্ণয় করা হয়। পাশাপাশি রাইড-শেয়ারিং, ম্যাপ বা লোকেশন-ভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহারের সময়ও তথ্য সংরক্ষিত হয়।

    অনেক অ্যাপ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লোকেশন ডাটা সংগ্রহ করে, যা পরে বিজ্ঞাপন লক্ষ্য নির্ধারণ বা ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।

    কেন এটি উদ্বেগের বিষয়

    সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ব্যবহারকারীর অবস্থান ও দৈনন্দিন রুটিন বিশ্লেষণ করে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব। কোথায় যান, কখন বাসা থেকে বের হন, কোথায় সময় কাটান—এসব তথ্য একত্রিত হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

    ফিটনেস অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নেভিগেশন সেবার তথ্য একত্রিত করলে আরও গভীর প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব হয়, যা ভুল হাতে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    লোকেশন সার্ভিস ব্যবহারে সতর্কতা

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রয়োজন ছাড়া সবসময় লোকেশন সার্ভিস চালু রাখা উচিত নয়। জরুরি প্রয়োজন বা নেভিগেশনের সময় এটি ব্যবহার করা ভালো, কাজ শেষে বন্ধ করে দেওয়া নিরাপদ।

    কোন অ্যাপ আপনার লোকেশন ব্যবহার করছে কীভাবে দেখবেন

    অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহারকারীরা সেটিংস থেকে লোকেশন পারমিশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যেসব অ্যাপের লোকেশন প্রয়োজন নেই, সেগুলোর অনুমতি বন্ধ করলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

    এছাড়া গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংরক্ষিত লোকেশন হিস্টোরি মুছে ফেলার সুযোগও রয়েছে।

    এয়ারপ্লেন মোড কি পুরোপুরি নিরাপদ?

    অনেকে মনে করেন এয়ারপ্লেন মোড চালু করলেই সব ধরনের ট্র্যাকিং বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি ততটা সহজ নয়। কিছু ধরনের ডাটা কার্যক্রম সীমিত আকারে চলতে পারে।

    সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

    সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ পারমিশন বন্ধ রাখা, নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পরীক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় লোকেশন শেয়ার এড়িয়ে চলা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

    প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে স্মার্টফোন আরও সক্ষম হয়ে উঠছে, তবে সেই সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে তথ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও। তাই সচেতন ব্যবহারই হতে পারে ডিজিটাল নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ