চাহিদা আছে, পণ্য নেই—ম্যাকবুক এয়ারের উৎপাদনে ধাক্কা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবার প্রভাব ফেলেছে অ্যাপলের জনপ্রিয় ল্যাপটপ ম্যাকবুক এয়ার-এর উৎপাদনে। বাজারে চাহিদা থাকলেও প্রয়োজনীয় মেমোরি চিপের ঘাটতির কারণে পর্যাপ্ত ইউনিট সরবরাহ করতে পারছে না প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এআইভিত্তিক ডাটা সেন্টার ও সার্ভারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব অবকাঠামোর জন্য উচ্চগতির ও উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে একই ধরনের চিপের ওপর নির্ভরশীল ল্যাপটপ নির্মাতারা সরবরাহ সংকটে পড়ছেন।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ম্যাকবুক এয়ার সিরিজে। প্রয়োজনীয় মেমোরি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে না পাওয়ায় উৎপাদনের গতি কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট কনফিগারেশনের ম্যাকবুক এয়ার পেতে গ্রাহকদের কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু অ্যাপলের সমস্যা নয়। এআই অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগের কারণে মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সার্ভারে ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের চিপ উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ের ল্যাপটপে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যাপল বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও বিপণন কৌশলেও পরিবর্তন আনছে। সাম্প্রতিক প্রচারণায় ম্যাকবুক এয়ারের পরিবর্তে এন্ট্রি-লেভেলের ম্যাকবুক প্রো মডেলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সীমিত মজুদের ওপর চাপ কমানো যায়।
খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, আগের তুলনায় ম্যাকবুক এয়ারের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক জনপ্রিয় মডেল অর্ডার করলেও দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক ক্রেতাই বিকল্প মডেল বেছে নিচ্ছেন অথবা নতুন চালানের জন্য অপেক্ষা করছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সংকট সাময়িক হলেও এর মূল কারণ দীর্ঘমেয়াদি। এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকলে উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপের চাহিদাও বাড়বে। তাই ভবিষ্যতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র, বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও বড় বিনিয়োগ করতে হতে পারে।