জাপানের কড়া ভিসানীতিতে বিপাকে বিদেশি উদ্যোক্তারা

জাপানে ব্যবসা পরিচালনার ভিসার নতুন ও কঠোর নীতির কারণে দেশটিতে বসবাসরত বহু বিদেশি উদ্যোক্তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। নতুন শর্ত পূরণ করতে না পারলে তাদের ভিসা নবায়ন জটিল হয়ে পড়বে, এমনকি জাপান ছাড়তেও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
টোকিওর ওকুবো এলাকায় নেপালি খাবারের একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করা নেপালি উদ্যোক্তা বুধাথোকি সামঝানা বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, জাপান ও নেপালের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু নতুন নীতিতে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাপান সরকার সম্প্রতি ব্যবসা পরিচালনার ভিসার শর্ত আরও কঠোর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ভিসা পেতে ন্যূনতম মূলধনের পরিমাণ ৫০ লাখ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ইয়েন করা হয়েছে, যা ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
২০১৬ সালে শিক্ষার্থী হিসেবে জাপানে যাওয়া সামঝানা কয়েক বছরের সঞ্চয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার একাধিক রেস্তোরাঁ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি নিজের মেয়েকেও জাপানে নিয়ে এসেছেন। তবে ভিসা নবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা মনীশ কুমার। প্রায় তিন দশক ধরে জাপানে বসবাস করলেও তাকে জানানো হয়েছে, তার ব্যবসা পরিচালনার ভিসা নবায়নের আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোরভাবে আবেদন যাচাই করছে। কর পরিশোধের নথি, সামাজিক বীমার কাগজসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত তথ্য জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নীতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একটি অনলাইন আবেদনে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ‘জাপানিজ ফার্স্ট’ নীতির প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা ছোট উদ্যোক্তা, রেস্তোরাঁ মালিক এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর।
এ ছাড়া নতুন নিয়মে ব্যবসা পরিচালনার ভিসাধারীদের অন্তত একজন জাপানি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাকে নিয়োগ দেওয়ার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। শ্রমিক সংকটে থাকা দেশটিতে এই শর্ত পূরণ করাও অনেক উদ্যোক্তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এএফপি