আইনি বৈধতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস-টিপিএস) নিয়ে বসবাসরত লাখো অভিবাসীকে ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের ভাষ্য, যাদের স্থায়ীভাবে থাকার আইনি সুযোগ রয়েছে তারা সেই প্রক্রিয়ায় এগোবেন, অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের টিপিএস সুবিধাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের মানবিক সুরক্ষা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা বহু অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যারা বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে চান, তাদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যদিকে, যারা সেই সুযোগ পাবেন না, তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রশাসন সহায়তা করবে।
তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুন জীবন শুরু করতে প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন আইনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের মানবিক সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিপিএস সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এটি স্থায়ী অভিবাসনের কোনো ব্যবস্থা নয়।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য এই সুরক্ষা চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক প্রশাসন এর মেয়াদ বাড়ালেও বর্তমান প্রশাসন তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণে কঠোর সতর্কতা জারি রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওহাইওতে বসবাসরত হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জাতিগত বৈষম্যমূলক—এমন অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সূত্র: রয়টার্স