রোমে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত

ইতালির রাজধানী রোমে এক বাংলাদেশি পরিবারের ওপর প্রাণঘাতী হামলায় তিনজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিগ্লোতে একটি আবাসিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পরিবারের কর্তা কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছেন। কামাল হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ইতালিতে বসবাস করছিলেন।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কামাল হোসেনের ১৮ বছর বয়সী ছেলে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এ সময় বড় ছেলে হামলাকারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আহত অবস্থায় বাসা থেকে বেরিয়ে সাহায্য চাইলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে রোম পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ইতালির বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারাবিনিয়েরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত যুবককে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতালীয় পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ডাকাতির চেষ্টা নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে সংঘটিত হয়েছে—সব দিকই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রবাসীরা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রোম পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।