সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে কমবে জ্বালানি ব্যয়, গবেষণায় বড় সাশ্রয়ের চিত্র

সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে কমবে জ্বালানি ব্যয়, গবেষণায় বড় সাশ্রয়ের চিত্র
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে ৫ কোটিরও বেশি টাকা সাশ্রয় করছে বলে জানিয়েছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)। সংগঠনটির নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার ফলে ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানির ওপর নির্ভরতা কমছে এবং সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত বার্তায় ক্লিন জানায়, গত আট বছরে দেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে মোট ৩ হাজার ২৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি আমদানি ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে ২ কোটি টাকা উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং প্রায় ৩.১১ কোটি টাকা জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে। পাশাপাশি এটি প্রায় ৯৮০ টন কার্বন নিঃসরণ এবং ২৫ টনের বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গত আট বছরে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ এবং ৪৮ হাজার ৪০৩ টন ক্ষতিকর বায়ুদূষণ এড়িয়েছে। এসব দূষণের মধ্যে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান রয়েছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সৌরবিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় ছিল ১৫.৫৪ টাকা, যেখানে এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় ছিল ২৭.৩৬ টাকা।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ শুধু উৎপাদন ব্যয়ই কমাচ্ছে না, বরং জ্বালানি আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও হ্রাস করছে। একই সঙ্গে এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন, নতুন কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প বন্ধ, এবং বৃহৎ পরিসরে সোলার জোন গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি গ্রিড আধুনিকায়ন, সৌর সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর কাঠামো বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন