ব্যবসায় স্বস্তি দিতে বাজেটে কর কাঠামো ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার আগমুহূর্তে কর ও শুল্ক কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা সহজ করা, মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং সামগ্রিকভাবে বাজেটকে আরও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যেই এসব সংশোধন আনা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, করপোরেট কর হ্রাস, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর কমানো, ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর প্রস্তাবিত একক ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সংসদে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য মূলত বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা এবং উৎপাদন খাতের চাপ কমানো।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে ধীরগতির কারণে শিল্প খাত চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ পর্যন্ত কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে, তারা কর সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে করপোরেট করহার আপাতত অপরিবর্তিত থাকবে।
এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, এতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং মানোন্নয়নে বেশি ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
করমুক্ত আয়সীমাও পরিবর্তন হচ্ছে। আগে যেখানে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল, তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই সীমা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে সোনা বিক্রির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূলধনি মুনাফা কর পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও করদাতাদের আপত্তির কারণে এটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করার আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে খুচরা পর্যায়ে প্রস্তাবিত একক ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তও স্থগিত করা হতে পারে। এতে মুদি, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায়ীরা আপাতত নতুন ভ্যাট কাঠামোর বাইরে থাকতে পারেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেটের সামগ্রিক আকার ও লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং বিনিয়োগে আস্থা বাড়ে।