বেক্সিমকোতে ফিরল ক্রেতা, আধাঘণ্টায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেনদেন

টানা কয়েক কার্যদিবস ক্রেতাশূন্য থাকার পর আবারও বেক্সিমকোর শেয়ারে আগ্রহ দেখিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। রোববার (২৯ জুন) লেনদেন শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ার কেনার চাপ বাড়ে। ফলে মাত্র আধাঘণ্টায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।
দিনের শুরুতে আগের ধারাবাহিকতার মতো সর্বনিম্ন দামে বিপুল পরিমাণ বিক্রির আদেশ এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকায় শেয়ারটির দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
সকাল ১০টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত বেক্সিমকোর প্রায় ৯৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। একই সময়ে সর্বোচ্চ দামে প্রায় ২৬ লাখ ৫৬ হাজার শেয়ার কেনার আদেশ জমা পড়ে, যদিও বিক্রির জন্য কোনো আদেশ তখন আর দেখা যায়নি।
এদিকে, একই সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৪ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়েছে।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে প্রথম ফ্লোর প্রাইস চালু করা হয় ২০২০ সালে, করোনাভাইরাস মহামারির সময় বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঠেকাতে। পরে ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করা হলেও, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত অস্থিরতার মধ্যে আবারও ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়।
পর্যায়ক্রমে অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এটি বহাল ছিল। পরে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ৮ জুন এ দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ৯ জুন থেকে কার্যকর হয়।
ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার পর বেক্সিমকোর শেয়ারের দর টানা কমতে থাকে। একসময় শেয়ারটির দাম ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে নেমে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছায়। সর্বশেষ লেনদেনে তা বেড়ে ৩১ টাকা ২০ পয়সায় ওঠে।
বর্তমানে বেক্সিমকোর মোট শেয়ারের সংখ্যা ৯৪ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ দশমিক ১১ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে, ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে, ৩২ দশমিক ৫৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং প্রায় ১ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।