মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি

বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর কাঠামো এখনো বৈষম্যমূলক রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, রাজস্ব আদায়ে সরকার এখনো পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করছে, যার সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছেন নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ট্যাক্স জাস্টিস ইন দ্য ন্যাশনাল বাজেট: অবজারভেশনস অন ফিসকাল প্রপোজালস ফর এফওয়াই ২০২৬-২৭’ শীর্ষক সংলাপে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট তামিম আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এছাড়া বক্তব্য দেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্বের প্রায় ৩৮ শতাংশ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ভ্যাট থেকে। যেহেতু ভ্যাট একটি পরোক্ষ কর, তাই এটি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর সমানভাবে আরোপিত হয়। ফলে আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এর প্রকৃত চাপ অনেক বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও করমুক্ত আয়সীমা প্রথম দুই বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের করদাতারা কোনো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাচ্ছেন না।

গবেষণায় বাজেটের আরেকটি বিতর্কিত দিক হিসেবে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগের সমালোচনা করা হয়। সিপিডির মতে, এতে সৎ করদাতাদের প্রতি বৈষম্য তৈরি হচ্ছে এবং কর ফাঁকিদাতাদের জন্য অনৈতিক প্রণোদনা সৃষ্টি হচ্ছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২২-২৩ অর্থবছরেই কর ফাঁকি ও কর এড়ানোর কারণে সরকার প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করা হয়।

এছাড়া বাজেটে সম্পদ কর বা উত্তরাধিকার কর চালুর কোনো উদ্যোগ না থাকায় ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে তুলনামূলক কম বরাদ্দের সমালোচনা করে সিপিডি জানায়, মৌলিক সামাজিক সেবায় আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সংলাপ শেষে করব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত করতে পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইড। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমানো, সম্পদ কর চালু, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করমুক্ত আয়সীমা পুনর্নির্ধারণ, ভ্যাটের হার কমানো এবং আবাসন খাতে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন