শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • মৃত্যুর হুমকিতে জীবনযুদ্ধে জেলখানার ভূমিকা

    মৃত্যুর হুমকিতে জীবনযুদ্ধে জেলখানার ভূমিকা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা কল্পনাকেও হার মানায়। ১৯০২ সালের ৮ মে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ মার্টিনিকের সাঁ-পিয়ের শহরে ঘটেছিল তেমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। এক ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে পুরো শহর ছাই হয়ে গেলেও, এক মদ্যপ কয়েদি কেবল তাঁর কারাকক্ষের দেয়ালের কারণে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরেন।

    প্রলয়ঙ্করী সেই সকাল

    ১৯০২ সালের মে মাসের শুরু থেকেই মাউন্ট পেলে আগ্নেয়গিরি অস্থির হয়ে উঠেছিল। ৮ মে সকালে হঠাৎ এক বিকট বিস্ফোরণে পাহাড়ের চূড়া ফেটে যায়। কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বিষাক্ত গ্যাস এবং আগ্নেয় ছাইয়ের মেঘ কয়েকশ মাইল বেগে শহরের দিকে ধেয়ে আসে। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। পুরো শহরটি পরিণত হয় জলন্ত এক শ্মশানে।

    কারাগার যখন জীবন রক্ষাকারী ঢাল

    শহর যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছিল, তখন মাটির গভীরে এক পাথরের তৈরি ছোট্ট অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি ছিলেন লুদগার সিলবারিস। মদ্যপ অবস্থায় মারামারির দায়ে তাকে একাকী কারাবাসের (Solitary Confinement) শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ঘরটি ছিল জানালাবিহীন এবং বাতাস চলাচলের সুযোগহীন।

    যে লোহার দরজা আর ভারী পাথরের দেয়াল তাকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল, সেই দেওয়ালই সেদিন আগ্নেয়গিরির ২ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। বিষাক্ত গ্যাস ভেতরে ঢুকতে না পারলেও তীব্র উত্তাপে সিলবারিসের শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। তিনি চারদিন ধরে সেই অন্ধকারে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন, কিন্তু তখনও জানতেন না যে বাইরের পৃথিবীর কেউ আর বেঁচে নেই।

    মৃত শহরের একমাত্র জীবিত ব্যক্তি

    বিস্ফোরণের চার দিন পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে সেই কারাগার এলাকা থেকে এক ক্ষীণ আর্তনাদ শুনতে পান। পাথর সরিয়ে যখন সিলবারিসকে উদ্ধার করা হয়, তখন পুরো শহরটি ছিল নিস্তব্ধ এবং জনশূন্য। অবিশ্বাস্যভাবে, ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকা মাত্র তিনজনের একজন ছিলেন তিনি।

    ঈশ্বরের বিচার ও মুক্তি

    সিলবারিসের এই বেঁচে ফেরাকে বিশ্বজুড়ে 'অলৌকিক' হিসেবে দেখা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাকে সমস্ত অপরাধ থেকে ক্ষমা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, "তিনি ইতোমধ্যেই প্রকৃতির চরম তাণ্ডব বা ঈশ্বরের বিচার থেকে বেঁচে ফিরেছেন, তাই নতুন করে মানুষের বিচারে তাকে দণ্ডিত করার প্রয়োজন নেই।"

    সিলবারিস তাঁর জীবনের বাকি সময়টুকু একটি সার্কাস দলের সাথে যুক্ত হয়ে অতিবাহিত করেন, যেখানে তিনি "সাঁ-পিয়েরের একমাত্র জীবিত মানুষ" হিসেবে নিজের গল্প শোনাতেন। আজও লুদগার সিলবারিসের কাহিনী এই সত্যেরই সাক্ষ্য দেয় যে—কখনও কখনও মানুষের দেওয়া চরম শাস্তিই হতে পারে কারো জীবনের শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ