মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আফগানিস্তানের ২ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড হাম ও উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ১৬৪ ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতায় জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে সরকার সৌদি আরবে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ১৫ শিশুসহ ১৩৯ জনের উপাচার্যকে ভবনে রেখেই ফটকে তালা দিলেন চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা উদ্যানে ককটেল সদৃশ বস্তু, ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করতে রাইস ওয়াটার কতটা কার্যকর?
  • কন্যাসন্তানের যত্ন ও ভালোবাসায় যে প্রতিদানের কথা জানিয়েছে ইসলাম

    কন্যাসন্তানের যত্ন ও ভালোবাসায় যে প্রতিদানের কথা জানিয়েছে ইসলাম
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইসলামে কন্যাসন্তানকে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জাহেলি যুগে কন্যাশিশুকে অবজ্ঞা করা এবং জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর প্রথা প্রচলিত ছিল। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কন্যাসন্তানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তাদের প্রতি সদয় আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন। ভালোবাসা, স্নেহ, সুশিক্ষা ও যথাযথ ভরণ-পোষণের মাধ্যমে কন্যাসন্তানকে বড় করাকে ইসলামে বিশেষ সওয়াবের কাজ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    কন্যাসন্তানের লালন-পালন, তাদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের প্রতি সদয় আচরণের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বিভিন্ন সুসংবাদ এসেছে। এমন পাঁচটি হাদিস তুলে ধরা হলো—

    ১. কন্যাসন্তানের প্রতি সদয় আচরণ জান্নাতের পথ

    আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার কন্যাসন্তান রয়েছে, সে যদি তাকে জীবন্ত কবর না দেয়, অবজ্ঞা না করে এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য না দেয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (মুসনাদে আহমাদ)

    ২. দুই বা তিন কন্যাকে লালন-পালনের প্রতিদান

    জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং সে তাদের আশ্রয় দেয়, তাদের প্রতি দয়া করে ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। এক সাহাবি জানতে চাইলেন, দুটি কন্যা থাকলেও কি একই প্রতিদান পাওয়া যাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, দুটি হলেও একই প্রতিদান রয়েছে। (আলবানি)

    ৩. কন্যাসন্তান জাহান্নাম থেকে সুরক্ষার কারণ হতে পারে

    আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক অভাবী নারী তাঁর দুই কন্যাকে নিয়ে সাহায্য চাইতে এলে তিনি তাকে একটি খেজুর দেন। নারীটি খেজুরটি দুই মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং নিজে কিছু খাননি। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি বলেন, কন্যাসন্তানের মাধ্যমে কেউ পরীক্ষার মুখোমুখি হলে এবং তাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করলে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার ঢাল হবে। (সহিহ মুসলিম)

    ৪. ধৈর্য ও ভরণ-পোষণে রয়েছে বিশেষ প্রতিদান

    উকবা ইবনে আমীর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং সে তাদের লালন-পালনে ধৈর্য ধারণ করে, নিজের উপার্জন থেকে তাদের খাবার, পানীয় ও পোশাকের ব্যবস্থা করে, কেয়ামতের দিন তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষার ঢাল হবে। (আলবানি)

    ৫. মহানবী (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভের সুসংবাদ

    আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তানকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কেয়ামতের দিন সে ও আমি এভাবে কাছাকাছি থাকব। এ কথা বলার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের দুই আঙুল একত্র করেছিলেন। (সহিহ মুসলিম)

    কন্যাসন্তানকে ভালোবাসা, সম্মান, সুশিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশে বড় করা বাবা-মায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাদের প্রতি বৈষম্য না করা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্নেহের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা ইসলামের শিক্ষার অংশ। হাদিসগুলো কন্যাসন্তানের লালন-পালনকে শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও তুলে ধরে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ