মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আফগানিস্তানের ২ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড হাম ও উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ১৬৪ ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতায় জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে সরকার সৌদি আরবে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ১৫ শিশুসহ ১৩৯ জনের উপাচার্যকে ভবনে রেখেই ফটকে তালা দিলেন চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা উদ্যানে ককটেল সদৃশ বস্তু, ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করতে রাইস ওয়াটার কতটা কার্যকর?
  • ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করতে রাইস ওয়াটার কতটা কার্যকর?

    ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করতে রাইস ওয়াটার কতটা কার্যকর?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এর মধ্যে রাইস ওয়াটার বা চাল ধোয়া পানি অন্যতম। ত্বক নরম রাখা, নিষ্প্রভ ভাব কমানো এবং মুখে সতেজতা আনতে অনেকে এটিকে ফেসিয়াল টোনার হিসেবে ব্যবহার করেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবেও পরিচিত এটি।

    তবে প্রতিদিন মুখে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করলেই কি ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর হয়? চালের পানিতে থাকা কিছু উপাদান ত্বকের যত্নে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার নিয়মিত ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের উন্নতি হয়—এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত। এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে প্রস্তুত প্রণালি, ব্যবহারের ধরন এবং ত্বকের প্রকৃতির ওপর।

    রাইস ওয়াটার কী?

    চাল ধোয়া, পানিতে ভিজিয়ে রাখা কিংবা সেদ্ধ করার পর যে শ্বেতসারযুক্ত পানি পাওয়া যায়, সেটিই রাইস ওয়াটার। প্রস্তুত প্রণালির ওপর নির্ভর করে এতে শ্বেতসার, কিছু অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকতে পারে।

    চাল থেকে পাওয়া কিছু উপাদান ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত প্রসাধনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব উপাদান ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষাস্তর ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে নির্দিষ্ট উপায়ে তৈরি চালের নির্যাসযুক্ত প্রসাধনী ও ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার এক নয়। এ দুটির উপাদান ও কার্যকারিতায় পার্থক্য থাকতে পারে।

    অনেকে রাইস ওয়াটার টোনার, মুখ ধোয়ার পানি কিংবা ফেস মাস্কের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে এর সম্ভাব্য উপকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা জরুরি।

    ত্বক নরম অনুভূত হতে পারে

    রাইস ওয়াটারে থাকা শ্বেতসার ত্বকের ওপর হালকা আস্তরণ তৈরি করতে পারে। এতে মুখের ত্বক সাময়িকভাবে মসৃণ ও নরম মনে হতে পারে। তবে এমন অনুভূতি পাওয়া মানেই ত্বকের আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তা নয়।

    ত্বক শুষ্ক হলে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা বেশি নির্ভরযোগ্য। বিশেষ করে গোসল বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হতে পারে।

    ত্বকে সাময়িক উজ্জ্বলতা আসতে পারে

    রাইস ওয়াটারকে অনেকেই ত্বকের নিষ্প্রভ ভাব দূর করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে দেখেন। এটি ব্যবহারের পর ত্বক মসৃণ বা সতেজ মনে হতে পারে। তবে ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা স্থায়ীভাবে বাড়ে কিংবা প্রাকৃতিক গায়ের রং পরিবর্তন হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই।

    ত্বকের সুস্থতা ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ত্বকের সুরক্ষাস্তর ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে

    ত্বকের সুরক্ষাস্তর আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বাইরের বিভিন্ন উত্তেজক উপাদান থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। চাল থেকে পাওয়া কিছু উপাদান নিয়ে গবেষণায় ত্বকের আর্দ্রতা ও সুরক্ষাস্তরের সম্ভাব্য উপকারিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    তবে এসব গবেষণার ফল ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটারের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। কারও কারও ত্বকে এটি আরামদায়ক মনে হতে পারে, কিন্তু লালচে ভাব, প্রদাহ বা অন্যান্য ত্বকের সমস্যা কমাতে এর কার্যকারিতা এখনো যথেষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    মুখে রাইস ওয়াটার ব্যবহারের নিয়ম

    রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে চাইলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। প্রথমে পরিষ্কার চাল ধুয়ে একটি পরিষ্কার পাত্রে পানিতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর চাল ছেঁকে পানি আলাদা করুন।

    মুখ পরিষ্কার করার পর হাত বা পরিষ্কার কটন প্যাড দিয়ে অল্প পরিমাণে রাইস ওয়াটার লাগাতে পারেন। চোখের চারপাশ এড়িয়ে চলুন। ত্বকে চটচটে ভাব, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হলে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং ব্যবহার বন্ধ করুন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

    প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতের ভেতরের দিকে বা ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটারে সংরক্ষক থাকে না, তাই এতে জীবাণু জন্মাতে পারে। প্রতিবার অল্প করে তৈরি করে দ্রুত ব্যবহার করুন; দুর্গন্ধ, রং বা গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে ফেলে দিন। দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া পানি মুখে ব্যবহার করবেন না।

    দিনের বেলায় ত্বকের সুরক্ষায় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

    শেষ কথা

    রাইস ওয়াটার ত্বকের যত্নে একটি সহজ ও কম খরচের উপায় হতে পারে। তবে এর উপকারিতা নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ত্বক নরম বা সতেজ অনুভূত হলেও এটি ব্রণ, দাগ, প্রদাহ কিংবা ত্বকের রং পরিবর্তনের প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। সংবেদনশীল ত্বক বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যা থাকলে নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন