শৌচাগারে যেসব ভুল অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন

মলত্যাগ শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও শৌচাগারে কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে দেখা দিতে পারে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। নিয়মিত মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা, দীর্ঘ সময় কমোডে বসে থাকা কিংবা অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার মতো অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য ও অর্শের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে দৈনন্দিন এসব অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
বেগ চেপে রাখা
কাজের ব্যস্ততা কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ব্যবহারে অনীহার কারণে অনেকেই মলত্যাগের বেগ উপেক্ষা করেন। তবে নিয়মিত এমনটা করলে মলত্যাগের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। বৃহদান্ত্রে দীর্ঘ সময় মল জমে থাকলে শরীর সেখান থেকে আরও বেশি পানি শোষণ করে। ফলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং তা বের করতে কষ্ট হয়। তাই বেগ অনুভব করলে সম্ভব হলে দেরি না করে শৌচাগারে যাওয়া উচিত।
কমোডে বসে ফোন দেখা
শৌচাগারে বসে ফোনে ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা দীর্ঘ সময় খবর পড়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় কমোডে বসে থাকা হয়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মলদ্বারের আশপাশের শিরায় চাপ বাড়তে পারে, যা অর্শের সমস্যা তৈরি বা বাড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রয়োজন শেষ হলে শৌচাগার থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো।
অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগে সমস্যা হলে অনেকে অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করেন। কিন্তু বারবার চাপ দিলে মলদ্বারে অস্বস্তি, ব্যথা কিংবা রক্তপাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অর্শ থাকলে উপসর্গও বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জোর করার পরিবর্তে খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ, পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভুল ভঙ্গিতে বসা
কমোডে বসার সময় পায়ের নিচে ছোট টুল বা পিঁড়ি রাখলে হাঁটু নিতম্বের তুলনায় কিছুটা ওপরে থাকে। এতে মলত্যাগের জন্য শরীরের অবস্থান তুলনামূলক অনুকূল হতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন কমে। তবে এই ভঙ্গি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
স্বাভাবিক মলত্যাগ বজায় রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান, শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মলত্যাগের বেগ উপেক্ষা না করা এবং শৌচাগারে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় না কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।