শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল জিতলেন অ্যানি কারসন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১১৪৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত এনসিটি পরিচালনায় ১৫ বছরের দায়িত্ব পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাইলেন মিন্টু যুব এশিয়া কাপে ৫ নভেম্বর আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ মানি চেঞ্জারে একবারে ৩ হাজার ডলার নিতে পারবেন বিদেশগামীরা বিয়ের দিনের চেয়েও সুন্দর, মেহজাবীনের নতুন সাজে মুগ্ধ ভক্তরা কেরানীগঞ্জে সড়কের পাশে রক্তমাখা নবজাতকের দায়িত্ব নিলো ইউএনও
  • দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কি সত্যিই অস্থিসন্ধির ক্ষতি হয়?

    দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কি সত্যিই অস্থিসন্ধির ক্ষতি হয়?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দাঁড়িয়ে পানি পান করলে অস্থিসন্ধির ক্ষতি হয়—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। বিশেষ করে বিভিন্ন পারিবারিক ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস থেকে এ ধারণার প্রচলন হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে পানি পান করার সঙ্গে অস্থিসন্ধির ক্ষতির সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    অর্থাৎ আপনি বসে বা দাঁড়িয়ে পানি পান করুন, এতে সরাসরি হাঁটু, কোমর বা শরীরের অন্য কোনো অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তবে পানি পান করার ধরন আপনার পান করার গতি ও স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

    দাঁড়িয়ে থাকলে অনেকেই তুলনামূলক দ্রুত পানি পান করেন। এতে একসঙ্গে বেশি পানি গেলার পাশাপাশি কিছুটা বাতাসও পেটে ঢুকতে পারে। ফলে কারও কারও পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে এসব বিষয়কে অস্থিসন্ধির ক্ষতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    অন্যদিকে বসে পানি পান করলে সাধারণত ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পানি পান করা সহজ হয়। শরীরও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকে। ধীরে পানি পান করার অভ্যাস গিলতে সুবিধা করতে পারে এবং অতিরিক্ত দ্রুত পানি পানজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

    যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পানি পান করা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে পানি বসে পান করলেই হজম বা কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    জয়েন্টের জন্য পানির গুরুত্ব

    তবে অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যের সঙ্গে পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অস্থিসন্ধির তরুণাস্থিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি থাকে। এই তরুণাস্থি হাড়ের প্রান্তকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি হাঁটা, দৌড়ানো বা দৈনন্দিন চলাফেরার সময় চাপ শোষণে ভূমিকা রাখে।

    ২০২২ সালে BMC Musculoskeletal Disorders জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণাস্থির পানির পরিমাণ কমে গেলে এর যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় গরুর নিতম্বের অস্থিসন্ধি থেকে নেওয়া তরুণাস্থির নমুনা ব্যবহার করা হয়েছিল। নমুনাগুলোর পানির পরিমাণ বিভিন্ন পর্যায়ে কমিয়ে তার ওপর ছন্দবদ্ধ চাপ প্রয়োগ করে হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় অস্থিসন্ধিতে পড়া চাপের অনুকরণ করা হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, তরুণাস্থি থেকে পানি কমে গেলে এর নমনীয়তা ও চাপ শোষণের সক্ষমতা কমে যায়। ফলে অস্থিসন্ধির ওপর পড়া যান্ত্রিক চাপ যথাযথভাবে সামলানোর ক্ষমতাও কমতে পারে। তরুণাস্থির নিচে থাকা সাবকন্ড্রাল হাড়ের বৈশিষ্ট্যও অস্থিসন্ধির সামগ্রিক যান্ত্রিক আচরণে ভূমিকা রাখে।

    তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা সরাসরি প্রমাণ করে না যে বেশি পানি পান করলে মানুষের অস্থিসন্ধির রোগ প্রতিরোধ হবে। এটি মূলত পরীক্ষাগারে তরুণাস্থির পানির পরিমাণ ও তার যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক নিয়ে করা গবেষণা।

    তাহলে কীভাবে পানি পান করবেন?

    পানি বসে না দাঁড়িয়ে পান করতে হবে—এমন কোনো কঠোর চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। স্বাভাবিকভাবে তৃষ্ণা অনুযায়ী পানি পান করা এবং শরীরে পর্যাপ্ত তরল বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    বসে ধীরে ধীরে পানি পান করলে অনেকের কাছে এটি বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে দাঁড়িয়ে পানি পান করলেও অস্থিসন্ধির ক্ষতি হবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    তাই দাঁড়িয়ে পানি পান করার অভ্যাস নিয়ে অস্থিসন্ধির ক্ষতির ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি না হতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই অস্থিসন্ধিসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ