মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আফগানিস্তানের ২ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড হাম ও উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ১৬৪ ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতায় জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে সরকার সৌদি আরবে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ১৫ শিশুসহ ১৩৯ জনের উপাচার্যকে ভবনে রেখেই ফটকে তালা দিলেন চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা উদ্যানে ককটেল সদৃশ বস্তু, ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করতে রাইস ওয়াটার কতটা কার্যকর?
  • সুরা আত-তিনের শিক্ষা: মানুষের মর্যাদা ও সৎকর্মের গুরুত্ব

    সুরা আত-তিনের শিক্ষা: মানুষের মর্যাদা ও সৎকর্মের গুরুত্ব
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পবিত্র কোরআনের ৯৫তম সুরা আত-তিন। আট আয়াতের এই সুরায় আল্লাহ তাআলা ডুমুর ও জলপাই, তুর পর্বত এবং নিরাপদ নগরীর শপথ করে মানুষের সৃষ্টিগত মর্যাদা, নৈতিকতা ও পরকালীন জবাবদিহির কথা তুলে ধরেছেন। সংক্ষিপ্ত এই সুরায় মানুষের জীবন, চরিত্র ও কর্মের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

    সুরা আত-তিনের চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা আত-তিন, আয়াত: ৪)

    এই আয়াত মানুষের সৃষ্টিগত মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ মানুষকে বিবেক, বুদ্ধি এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়; সত্য গ্রহণ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সৎকর্ম করার সামর্থ্যও তার মর্যাদার অংশ। তাই নিজের মর্যাদা উপলব্ধি করার পাশাপাশি অন্যের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা জরুরি। অহংকার, অন্যায় ও অনৈতিকতা মানুষকে নৈতিকভাবে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়।

    সুরার পরের দুই আয়াতে মানুষের অধঃপতন এবং ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারপর আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি হীনদের মধ্যে হীনতম অবস্থায়। তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিদান।’ (সুরা আত-তিন, আয়াত: ৫-৬)

    এই আয়াতগুলো থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা শুধু বংশ, সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা বাহ্যিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না। ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে মানুষ নিজের জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে। অন্যদিকে অন্যায় ও পাপের পথে চললে নিজের মর্যাদা ও চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ঈমানের প্রকাশ শুধু মুখে বিশ্বাসের কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সততা, আমানতদারি, মানুষের অধিকার রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে বিশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। পরিবার, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা কিংবা সামাজিক জীবনে একজন মানুষ কতটা ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল, তা তার চরিত্রের পরিচয় বহন করে।

    সুরা আত-তিনের শিক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বাস ও নৈতিকতার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত জীবনে সৎ থাকার পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সঙ্গে আচরণে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া সৎ জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    সুরার শেষ আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করেছেন, ‘আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?’ (সুরা আত-তিন, আয়াত: ৮)

    এই আয়াত মানুষকে আল্লাহর চূড়ান্ত বিচার ও জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ায় কেউ অন্যায় করে সাময়িক সুবিধা পেলেও পরকালে আল্লাহর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে—ইসলামের এই বিশ্বাস মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত থাকতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উৎসাহিত করে।

    সুরা আত-তিনের মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহ প্রদত্ত মানবিক মর্যাদা রক্ষা করতে হলে ঈমান, সৎকর্ম ও উত্তম চরিত্রের সমন্বয় ঘটাতে হবে। মানুষের প্রকৃত সাফল্য কেবল পার্থিব অর্জনে নয়; বরং বিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণতা, দায়িত্বশীলতা ও সৎকর্মের মধ্যেই নিহিত।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ