দেনমোহর পরিশোধের আগে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকতে পারবেন?

ইসলামে বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও দায়িত্বশীল বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। হাদিসে বিয়েকে দ্বীনের অর্ধেক পূরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (মুসতাদরাক হাকিম, হাদিস: ২৭২৮)
বিয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেনমোহর। এটি স্ত্রীর প্রাপ্য হক এবং স্বামীর জন্য তা আদায় করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও। অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৪)
অর্থাৎ বিয়ের সময় যে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি স্ত্রীর অধিকার। স্বামীর ওপর এই অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব বর্তায়। ইচ্ছাকৃতভাবে দেনমোহর পরিশোধ না করা বা অযথা বিলম্ব করা তাই অবহেলার বিষয় নয়।
দেনমোহর পরিশোধের ক্ষেত্রে বিয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে সহবাসের আগে দেনমোহর পরিশোধ করে দেওয়া ভালো। কারণ এটি স্ত্রীর হক এবং স্বামীর দায়িত্বে থাকা একটি ঋণের মতো, যা পরিশোধ করা জরুরি।
তবে দেনমোহর বাকি থাকলেই স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হয়ে যায় না। একই সঙ্গে দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হিসেবে নির্ধারিত থাকলে, তা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী সহবাসে আপত্তি জানাতে পারেন। অন্যদিকে বিয়ের সময় যদি দেনমোহর পরবর্তীতে পরিশোধের শর্তে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সেই কারণে স্ত্রী স্বামীকে সহবাস থেকে বাধা দিতে পারবেন না। তবে স্বামীর উচিত নির্ধারিত দেনমোহর যথাসময়ে পরিশোধ করা।
অনেকে বিয়েতে বড় অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণকে সামাজিক মর্যাদার বিষয় মনে করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে বেশি দেনমোহর নির্ধারণ করাই মর্যাদার মাপকাঠি নয়। বরং সামর্থ্যের বাইরে বড় অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করে তা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া সমস্যার কারণ হতে পারে।
হাদিসে দেনমোহর সহজসাধ্য রাখার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম মোহরানা হচ্ছে সহজসাধ্য মোহরানা।’ (বাইহাকি, হাদিস: ১৪৭২১)
তাই বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সম্মতি, বাস্তব সামর্থ্য এবং স্ত্রীর অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নির্ধারিত দেনমোহরকে বোঝা বা আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার হিসেবে যথাসময়ে পরিশোধ করাই ইসলামের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।