নামাজে বারবার দুনিয়াবি চিন্তা এলে করণীয় কী?

নামাজ মুমিনের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগ পায়। তবে নামাজে দাঁড়ানোর পর অনেকেরই মন স্থির থাকে না। দুনিয়াবি চিন্তা, পুরোনো ঘটনা কিংবা নানা অপ্রয়োজনীয় ভাবনা এসে ইবাদতের একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটায়।
নামাজের সময় মানুষের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য বিশেষ এক ধরনের শয়তানের কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। এর নাম ‘খিনজিব’।
হজরত উসমান ইবনু আবুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! শয়তান আমার ও আমার সালাত ও কিরাতের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে তা আমার জন্য এলোমেলো করে দেয়।’
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওটা এক ধরনের শয়তান, যার নাম খিনজিব। যখন তুমি তার উপস্থিতি অনুভব করবে, তখন আল্লাহর কাছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং তোমার বাঁ দিকে তিনবার থুতু নিক্ষেপ করবে।’
হজরত উসমান (রা.) বলেন, এরপর তিনি তা করলে আল্লাহ তাঁর কাছ থেকে ওই সমস্যা দূর করে দেন। (সহিহ মুসলিম)
হাদিসটি থেকে জানা যায়, নামাজে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। নামাজের মধ্যে অফিসের কাজ, ব্যবসার হিসাব, পারিবারিক সমস্যা কিংবা দিনের কোনো পুরোনো ঘটনা হঠাৎ মনে পড়ে যেতে পারে। কখনো এমন বিষয়ও মনে আসে, যা নামাজের আগে একবারও মনে ছিল না।
এ ধরনের চিন্তা চলে এলে হতাশ না হয়ে মনকে আবার নামাজের দিকে ফিরিয়ে আনা উচিত। কোনো চিন্তার পেছনে না ছুটে কিরাত, তাসবিহ ও দোয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
নামাজে একাগ্রতা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হলো, যে সুরা ও দোয়া পড়া হচ্ছে তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করা। অর্থ জানা থাকলে নামাজ শুধু মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বান্দা তার রবের সামনে কী বলছে, তা উপলব্ধি করার সুযোগ পায়।
নামাজের আগে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমিয়ে কিছুটা সময় শান্ত থাকা, অজু করে স্থির হওয়া, মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখা এবং তাড়াহুড়া না করে নামাজ আদায় করাও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নামাজে মনোযোগ বারবার নষ্ট হলেও নিজেকে ব্যর্থ মনে না করা। বরং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে বারবার মনকে ইবাদতের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা উচিত। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নামাজে একাগ্রতা বাড়ানো সম্ভব।