সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরান মুস্তাফিজের এমন বোলিং অপ্রত্যাশিত, মোসাদ্দেককে ব্যবহার করা উচিত ছিল: সুজন পুলিশে বড় রদবদল, ডিআইজি-এসপি পদমর্যাদার ২৪ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ডেঙ্গু ও হাম উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজার ৩০৭ নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচনী ব্যয় কমানোর তাগিদ জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ দিল্লিতে রিয়াজ হামিদুল্লাহর বাংলাদেশের ৯২% পণ্যে যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে: সারাহ কুক টোকিওতে বাড়ছে যৌন পর্যটনের অভিযোগ, উদ্বেগে জাপান ভার্চুয়াল যোগাযোগেই কি ভাঙছে দাম্পত্যের বিশ্বাস?
  • শুধু স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেই কি বিয়ে হয়ে যায়?

    শুধু স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেই কি বিয়ে হয়ে যায়?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইসলামে বিয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সামাজিক বন্ধন হিসেবে দেখা হয়েছে। সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা তা চক্ষুকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

    অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবরানি, হাদিস: ৯৭২)

    বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তে অভিভাবকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১১০১)

    ইসলামে বিয়ে গোপন না রেখে তা প্রকাশ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ গোপন বিয়েকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ জন্য হাদিসে বিয়ে প্রকাশ্যে করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

    ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ইজাব ও কবুল। অর্থাৎ এক পক্ষের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব এবং অপর পক্ষের তা গ্রহণের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ সময় শরিয়তসম্মত সাক্ষীর উপস্থিতিও জরুরি।

    বিখ্যাত ফকিহ আলাউদ্দিন কাসানী (রহ.) বলেন, বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব ও কবুল। নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে অথবা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো পদ্ধতিতে এটি সম্পন্ন হয়।

    তাই শুধু স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একে অপরকে পরিচয় দেওয়া বা নিজেদের মধ্যে এমন সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

    ফকিহ ইবনু নুজাইম (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিয়ে ইজাব ও কবুলের সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধু কোনো বিদ্যমান বিষয় স্বীকার করে নেওয়ার মাধ্যমে নতুন বৈবাহিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না।

    অর্থাৎ কোনো পুরুষ সাক্ষীদের সামনে কোনো নারীকে ‘আমার স্ত্রী’ এবং নিজেকে ‘তার স্বামী’ বলে পরিচয় দিলেন, একইভাবে ওই নারীও তাকে স্বামী হিসেবে স্বীকার করলেন—শুধু এ ধরনের বক্তব্যের কারণে তাদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। বিয়ের জন্য শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

    তবে বিয়ে না করে নারী-পুরুষের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রাখা বা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা জিনার কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীলতা এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৩২)

    এই আয়াতে শুধু জিনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়নি; বরং জিনার কাছাকাছি নিয়ে যায়—এমন কাজ থেকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই অবৈধ সম্পর্কের দিকে নিয়ে যেতে পারে বা অনৈতিকতার আশঙ্কা তৈরি করে—এমন কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকা জরুরি।

    রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুই চোখের জিনা হলো (কামনার সঙ্গে) তাকানো, দুই কানের জিনা হলো (অবৈধ কথা) শোনা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের জিনা হলো (সেদিকে) হেঁটে যাওয়া। আর অন্তর কামনা করে ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, আর লজ্জাস্থান সেটিকে বাস্তবায়িত করে অথবা করে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২৪৩)

    আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো পুরুষ যখন কোনো (গায়রে মাহরাম) নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রিত হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৬৫)

    সুতরাং বিয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত নিয়ম অনুসরণ করা এবং বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ