ওসমানী মেডিকেলে সময়মতো আসেন না চিকিৎসকরা, ছাড়েনও আগেই

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা না মানার চিত্র উঠে এসেছে বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হয়েও চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ছাড়ছেন।
এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্দেশনা জারি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে অফিস শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা। কিন্তু সকাল ৯টার পর বহির্বিভাগের ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৬৫ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় শুরুর এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত হন।
অন্যদিকে, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগের হার আরও বেশি। বেলা ২টা ৩০ মিনিটের আগে বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক হাসপাতাল ছেড়ে যান বলে বায়োমেট্রিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে এমন অসঙ্গতি রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জবাবদিহিতা বজায় রাখতেই চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন এবং রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ না করার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালক আরও বলেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম আবারও পরিলক্ষিত হলে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।