বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj

সুরা ইখলাস ২০০ বার পড়ার ফজিলত কী? হাদিসে যা এসেছে

সুরা ইখলাস ২০০ বার পড়ার ফজিলত কী? হাদিসে যা এসেছে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সুরা ইখলাস কোরআনের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ সুরা। এর মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে সহিহ হাদিসে একাধিক বর্ণনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কেও একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যদিও হাদিসটি মুহাদ্দিসদের মতে দুর্বল (যঈফ) সূত্রে এসেছে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত ওই হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ৫০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন, যদি তার ওপর মানুষের কোনো ঋণ না থাকে। (সুনানে তিরমিজি)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) বলেন, এখানে ঋণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হতে পারে, মানুষের হক বা ঋণ কেবল এই আমলের মাধ্যমে মাফ হয় না। আবার কেউ কেউ ব্যাখ্যা করেছেন, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ ফজিলত প্রযোজ্য হবে না, যতক্ষণ না সে ঋণ পরিশোধ করে।

তবে সুরা ইখলাসের মর্যাদা সম্পর্কে সহিহ হাদিসে আরও শক্তিশালী বর্ণনা রয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, তিনি তাদের কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ শুনাবেন। এরপর তিনি সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করেন।

আরেকটি সহিহ হাদিসে নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করে, সে যেন কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতের সওয়াব লাভ করে। (সহিহ বুখারি)

মুসনাদে আহমদের একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ১০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। এ কথা শুনে হজরত ওমর (রা.) বলেন, তাহলে তো আমরা অনেক প্রাসাদের অধিকারী হয়ে যাব। জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলার দান এর চেয়েও অনেক বেশি।

সুরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা। এতে চারটি আয়াত রয়েছে। এই সুরায় আল্লাহ তাআলার একত্ব, তাঁর অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর অতুলনীয় সত্তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইসলামের আকিদার মৌলিক ভিত্তিগুলোর একটি এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ সুরায় তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, সুরা ইখলাস নিয়মিত তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। তবে কোনো নির্দিষ্ট আমলের ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদিসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সহিহ সূত্রে বর্ণিত আমলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন