বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj

মানবসেবাই আত্মশুদ্ধির অন্যতম পথ: ড. ইয়াসির ক্বাদি

মানবসেবাই আত্মশুদ্ধির অন্যতম পথ: ড. ইয়াসির ক্বাদি
ছবি: এআই
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মানুষের কল্যাণে কাজ করা ছাড়া আত্মার পরিশুদ্ধি বা তাজকিয়া পূর্ণতা পায় না—এমনটাই বলেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ড. ইয়াসির ক্বাদি। তাঁর মতে, সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো, অভাবীদের সহযোগিতা করা এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়েই একজন মুসলিম প্রকৃত আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারেন।

তিনি বলেন, ইসলামে বৈরাগ্য বা সমাজবিচ্ছিন্ন জীবনধারার কোনো স্থান নেই। একজন উত্তম মুসলিম সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন, সমাজের কল্যাণে কাজ করেন এবং একই সঙ্গে আল্লাহর ইবাদতেও মনোনিবেশ করেন।

ড. ক্বাদি স্মরণ করিয়ে দেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়তের আগেই সমাজে একজন বিশ্বস্ত, দয়ালু ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্ষুধার্ত, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর স্বভাব। নবুয়তের পরও তিনি মানবসেবাকেই ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি বলেন, কোরআনে আনসারদের প্রশংসা করা হয়েছে কারণ তারা নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও মুহাজিরদের অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। নিঃস্বার্থ দান, উদারতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাকেই আল্লাহ প্রকৃত ঈমান ও আত্মশুদ্ধির নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ড. ইয়াসির ক্বাদি আরও বলেন, গোপনে ইবাদত যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানুষের সেবা করাও আত্মশুদ্ধির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই হাদিসের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এক ব্যক্তির অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়ার অভিযোগের জবাবে এতিম শিশুর মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা হৃদয়কে কোমল করে—এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষুধার্তকে আহার করানো, এতিমের দায়িত্ব নেওয়া, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো বা মানবকল্যাণে কাজ করা কোনো প্রচারণা বা লোকদেখানো বিষয় নয়। এসব কাজ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত। প্রশংসা বা ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনের জন্য নয়, বরং ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করেই মানুষের সেবা করতে হবে।

ড. ক্বাদির ভাষায়, একজন মুসলিমের পরিচয় কেবল ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, মানুষের কষ্ট লাঘব করা এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করাও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একজন মুমিন মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে পারেন।


সূত্র: এপিক মসজিদ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন