তায়েফের সেই স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ, যেখানে বিশ্রাম নেন মহানবী (সা.)

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে অবস্থিত মসজিদে আদ্দাস ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিবিজড়িত স্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই স্থান। তায়েফবাসীর নির্যাতনের পর তিনি যে স্থানে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়েছিলেন, সেই স্থানেই পরবর্তীতে নির্মিত হয় এই ছোট্ট মসজিদ।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে মক্কার বাইরে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তায়েফে যান মহানবী (সা.)। কিন্তু সেখানকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি তাঁকে অপমান করেন এবং উসকানি দিয়ে শিশু ও উচ্ছৃঙ্খল লোকদের দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করান। এতে মহানবী (সা.) রক্তাক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, তায়েফ থেকে ফেরার পথে তিনি উতবা ও শায়বা ইবনে রাবিয়ার একটি আঙুর বাগানে আশ্রয় নেন। তাঁর এই অবস্থা দেখে তারা নিজেদের খ্রিস্টান দাস আদ্দাসকে এক থোকা আঙুর দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পাঠান।
আঙুর গ্রহণের আগে মহানবী (সা.) ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করলে আদ্দাস বিস্মিত হন। তিনি জানান, এ ধরনের কথা তিনি আগে কখনও শোনেননি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে মহানবী (সা.) জানতে পারেন, আদ্দাস ইরাকের প্রাচীন শহর নিনেভাহ-এর বাসিন্দা। তখন তিনি হজরত ইউনুস (আ.)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, ইউনুস (আ.) আল্লাহর একজন নবী ছিলেন এবং তিনিও একই ধারার একজন নবী।
মহানবী (সা.)-এর কথা ও আচরণে গভীরভাবে প্রভাবিত হন আদ্দাস। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ইসলামের প্রাচীন ইতিহাসবিদ ইবনে ইসহাক তাঁর ‘সিরাত’ গ্রন্থে এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে ইবনে হিশামও তাঁর সিরাত গ্রন্থে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষণ করেন।
বর্তমানে মসজিদে আদ্দাস তায়েফের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শন। হজ ও ওমরাহ পালনে সৌদি আরব সফরকারী অনেক মুসল্লি সুযোগ পেলে এই স্থানটি জিয়ারত করেন। মহানবী (সা.)-এর ধৈর্য, আল্লাহর ওপর অটল ভরসা এবং কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও দাওয়াতি মিশন অব্যাহত রাখার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে মসজিদে আদ্দাস আজও মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে।