ইখলাসহীন ইবাদত কেন আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়

রিয়া বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে ইবাদত ও নেক আমল করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, যে কোনো ইবাদত বা সৎকর্মের মূল ভিত্তি হলো বিশুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য। মানুষকে দেখানোর জন্য করা আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য দান করে এবং পরে খোঁটা দেয় বা কষ্ট দেয়, তাদের দানের কোনো মূল্য থাকে না। এমন আমল প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া মাটির মতো সম্পূর্ণ নিষ্ফল হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও রিয়াকারির ভয়াবহতা সম্পর্কে তাঁর উম্মতকে বারবার সতর্ক করেছেন। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন প্রথম বিচারের মুখোমুখি হওয়া তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন শহীদ, একজন আলেম এবং একজন দানশীল ব্যক্তি থাকবেন। বাহ্যিকভাবে তারা বড় নেক আমল করলেও, যদি উদ্দেশ্য হয় মানুষের প্রশংসা অর্জন, তাহলে সেই আমল কবুল হবে না এবং তাদের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসায় মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা অলসভাবে নামাজ আদায় করে এবং মানুষকে দেখানোর জন্য ইবাদত করে। একইভাবে সূরা আল-মাউনেও লোকদেখানো নামাজিদের জন্য ধ্বংসের সতর্কবার্তা এসেছে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোনো আমল কবুল হওয়ার দুটি প্রধান শর্ত হলো—তা সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে এবং সম্পূর্ণ ইখলাস বা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করতে হবে। রিয়া বা লোকদেখানো মনোভাব এই ইখলাসকে নষ্ট করে দেয়।
হাদিসে রিয়াকারিকে 'ছোট শিরক' বলা হয়েছে। মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাঁর উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে তিনি আশঙ্কা করেন, তা হলো এই ছোট শিরক, অর্থাৎ লোকদেখানো আমল।
ইবনে মাজাহর একটি হাদিসে আরও এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, "আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জানাব না, যা আমার দৃষ্টিতে দাজ্জালের ফিতনার চেয়েও বেশি ভয়ংকর?" সাহাবিরা সম্মতি জানালে তিনি বলেন, "তা হলো গোপন শিরক। যেমন, কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নিজের নামাজকে আরও সুন্দর বা দীর্ঘ করে।"
ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রতিটি ইবাদত, দান-সদকা ও নেক কাজ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত। মানুষের প্রশংসা বা সুনাম অর্জনের উদ্দেশ্যে করা আমল ইবাদতের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে দেয় এবং তা পরকালে কোনো উপকারে আসে না। তাই একজন মুমিনের উচিত সব সময় নিজের নিয়তকে বিশুদ্ধ রাখা এবং রিয়া বা লোকদেখানোর প্রবণতা থেকে দূরে থাকা।