বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj

বৈশ্বিক জনমতে চীনের উত্থান, যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ভাটা: পিউ জরিপ

বৈশ্বিক জনমতে চীনের উত্থান, যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ভাটা: পিউ জরিপ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০০২ সাল থেকে শুরু হওয়া এ ধরনের জরিপে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক জনমত যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চের জরিপের এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের কাছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দুই দেশের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়।

জরিপের ফল অনুযায়ী, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টি দেশেই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে চীনের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে কিছু দেশে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ওঠানামা থাকলেও সাধারণত চীন যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ে বা কিছুটা পিছিয়ে থাকত। তবে এবারের জরিপে প্রথমবারের মতো এত বড় ব্যবধানে চীনের পক্ষে বৈশ্বিক জনমত দেখা গেছে।

জরিপে দেখা গেছে, ইতালি, স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক বেশি হলেও উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে চীন নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব এখনো বিদ্যমান।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে মতামতের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে জাপানে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ।

জরিপে দুই দেশের শীর্ষ নেতার প্রতিও মানুষের আস্থা যাচাই করা হয়। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থার বিষয়টি উঠে আসে।

বেশিরভাগ দেশেই শি জিনপিং ট্রাম্পের তুলনায় কিছুটা বেশি সমর্থন পেয়েছেন। পাকিস্তানে শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা। অন্যদিকে জাপানে তার প্রতি আস্থার হার মাত্র ৭ শতাংশ। ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ আস্থা দেখা গেছে ফিলিপাইনে।

তবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন অনেক উত্তরদাতা। যদিও আগের তুলনায় এ ব্যবধান কমেছে। মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশি হস্তক্ষেপ করে। চীনের ক্ষেত্রে একই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির পরিবর্তন, সামরিক কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চীনের প্রভাব বাড়ছে।

তবে চীনের নেতৃত্ব, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নীতির সমালোচনাও রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ফলে বৈশ্বিক জনমতে চীনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়লেও দেশটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এখনো সব জায়গায় সমান নয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন