হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পকে কড়া বার্তা ইরানের সামরিক মুখপাত্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও পাল্টা হামলার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির খতম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারির বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মেহের নিউজ এজেন্সি।
জোলফাঘারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীতি অনুসরণ করছে। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না এবং এটিকে দেশটির ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবে রূপ দেয়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ও ব্যাপক জবাব দেবে। তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ইরানের সংযমের কারণে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে, সেগুলোও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যেকোনো হামলার জবাব শুধু সমপর্যায়ের হবে না, বরং আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। পরে যুদ্ধবিরতি ও একাধিক দফা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যার মধ্যে চিকিৎসাকর্মীরাও রয়েছেন।